এক ইতাতী আমীরের আতিথ্য- বাদ

মুআয নূর


রাতে খাবারের দস্তরখানে বসলাম। দস্তরখান হয়ে উঠলো টকশোর রাউন্ড টেবিল। আমাদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করলেন আমাদের মেজবান জনাব আবু তাহের সাহেব। তিনি বান্দরবন জেলার লামা উপজেলার কলিনগাবিল মারকাজের ইতাতী আমির। দীর্ঘদিন ধরে মেহনতের সাথী। দ্বীনের ব্যাপারে তার জজবা, ব্যথা উলামায়ে কিরামেরচে অনেক বেশি(?)। যৌবন কেটেছে সেনা ব্যারাকে। চৌকশ সেনাকর্মকর্তা ছিলেন। এখন পাহাড়ের জমি লিজ নিয়ে বিশাল মাল্টা, আপেল আর কমলার বাগান করেছেন। আলোচনার সূচনাকালে মাল্টাবাগানে খুব জোরপূর্বক নিমন্ত্রণ জানালেন।
আলোচনা বহুমুখী।
আর সব আলোচনার উত্তপ্ত পরিশিষ্ট সম্ভবত দ্বীন-ধর্মে এসে সমাপ্তির রাস্তা খুঁজে। ধর্মীয় বিষয়ে মতামত পেশ করা সবচে সহজ একটা কাজ। অনেকের ধারণামতে ইহা একটি সামাজিক অধিকারও বটে। এখানেও তাই ঘটলো…
– ‘আচ্ছা বাজান! সাহাবায়ে কিরাম কি রকম কষ্ট মুজাহাদা করে দ্বীনের তাবলীগ করেছেন। কত দুনিয়াবিমুখ ছিলেন তারা! ভাবা যায়!! আল্লাহর রাস্তায় না বের হয়ে মাদরাসায় বসে কি তাবলীগ হয়?’
-বললাম, হুজুররা তো বাড়িঘর ছেড়েই মাদরাসায় এসেছেন। বেরতো হলেন তো বাড়ি থেকে!’ জবাব মনঃপুত হলোনা বোধহয়।
প্রসঙ্গ বদলিয়ে বললেন, ‘আচ্ছা, মুসলমানরা যদি দুই দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে, একদিকে কাজের সাথি অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষ (!)। তাদের সবার উদ্দেশ্য দ্বীনের কাজ করা, এক্ষেত্রে কাদের সাথে থাকা জরুরি? বেশিরভাগ মানুষের সাথে না মুখলিসদের সাথে??
আমি বললাম, যেহেতু বিষয়টা দ্বীনী, আর দ্বীনী বিষয়ের সম্পর্ক হলো দ্বীনী ইলমের সাথে,আর দ্বীনের ইলম উলামায়ে কিরামের কাছেই আছে, তাই দ্বীনী বিষয়ে উলামায়ে কিরামের কথা, এবং তাদের পরামর্শ মুতাবেক চলা নিরাপদ। তাছাড়া উনারা জুমহুর।
জুমহুর শব্দে উনার ব্যাপক আপত্তি। তাই হাদীসের বানী বল্লেন-
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি জুমহুরের সাথে থাকতে বলেছেন না ইখলাস ওয়ালার সাথে থাকতে বলেছেন??
– জি, যদি একদিকে শুধুমাত্র ইখলাস ওয়ালা থাকেন আরেকদিকে ইখলাস এবং ইলম ওয়ালা থাকেন তাহলে শুধু ইখলাস ওয়ালারচে ইখলাস এবং ইলম ওয়ালারা প্রাধান্য পান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আমার উম্মত একসাথে কখনো পথভ্রষ্ট হবেনা।’
সূচনাকালের নিমন্ত্রণটা স্মরণ করিয়ে বললাম, মাল্টাবাগানে দেখা হবে, ইনশাআল্লাহ। এতক্ষণের হাসিখুশী চেহারায় কোনো উৎসাহ দেখা গেলোনা।
ততক্ষণে আমাদের সামনে পরিবেশিত কয়েক প্রকার তরকারি পাহাড়ি কুয়াসার স্পর্শে ঠাণ্ডা হয়ে গেছে।

Leave a Reply