edited- ওয়াজাহাতী মজলিস : তাবলীগ জামাতের বর্তমান সংকট ও আমাদের করণীয়-মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

 

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক


ভূমিকা : তাবলীগ জামাতের বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের সবার জন্যই বড় পেরেশানী ও কষ্টের কারণ। বাস্তবেই এটি এক বড় মুসীবত, যা মূলত আমাদের জন্য পরীক্ষা। আল্লাহ করুন, আমরা এই পরীক্ষায় যেন উত্তীর্ণ হতে পারি এবং এখান থেকে উপযুক্ত নসীহতও হাসিল করতে পারি। কিন্তু সেজন্য শর্ত হল, যথাযথভাবে এই পরিস্থিতির হাকীকত ও বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারা এবং এক্ষেত্রে হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ণয় করতে পারা। পাশাপাশি এ অবস্থায় কার কী দায়িত্ব তাও জেনে নেওয়া।

আল্লাহ তাআলার শোকর যে, উলামায়ে কেরাম একান্তভাবে এবং সম্মিলিত মজলিসে লোকজনকে এ বিষয়ে বোঝানোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এর ধারাবাহিকতায় দেশে বিভিন্ন জায়গায় ওয়াজাহাতী জোড়ও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আলহামদু লিল্লাহ, এইসব জোড়ের কিছু ফায়েদাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। এর ফায়েদা আরো বেশি হত যদি তাতে আলোচকবৃন্দের সকলে সতর্কতার সাথে কথা বলতেন এবং আলোচনার মধ্যে ইকরাম ও শারাফাতের পূর্ণ খেয়াল রাখতেন। কিন্তু যতটুকু দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো আলোচকের আলোচনায় এই দুই শর্তের যথাযথ গুরুত্ব প্রকাশ পাচ্ছে না।

মাসিক আলকাউসারের তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক সাহেবও বর্তমান পরিস্থিতির নাযুকতা অনুভব করে মুরব্বিদের হুকুমে বিভিন্ন ওয়াজাহাতী মজলিসে শরিক হয়েছেন। যদিও অধিকাংশ মজলিসে তার আলোচনা হয়েছে খুবই সংক্ষিপ্ত, তবে কয়েকটি মজলিসের আলোচনা বেশ দীর্ঘ ও বিস্তারিত হয়েছে এবং মাশাআল্লাহ খুবই সহজ ও হৃদয়স্পর্শী হয়েছে। সবচে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে গত ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪০ হিজরী মোতাবেক ১৩ নভেম্বর ২০১৮ ঈসায়ী তারিখে মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও বড় মসজিদে।

মাসিক আলকাউসারের পাঠকবৃন্দের ফায়েদার কথা চিন্তা করে আলোচনাটি এখানে প্রকাশ করা হচ্ছে। এটি তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব ও মুহাম্মাদুল্লাহ মাসুম মুসাজ্জিলা থেকে পত্রস্থ করেছে। এরপর আলোচক নিজেই আলোচনাটির নযরে সানী ও জরুরি সম্পাদনা করে দিয়েছেন। কোথাও কোথাও আরো কিছু জরুরি কথাও যুক্ত করেছেন। আল্লাহ তাআলা এই মেহনতকে কবুল করুন। এ থেকে আমাদের সবাইকে ফায়েদা দান করুন– আমীন।

আলোচনাটি পাঠ করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, এটি কোনো মাকালা বা প্রবন্ধ নয়; বরং এটি একটি বয়ান। এতে বয়ানের উপস্থাপন অক্ষুণ্ণœ রাখা হয়েছে। এজন্য পড়ার সময় বিষয়টি যেহেনে রাখলে পড়তে সুবিধা হবে। –সম্পাদক

আলহামদু লিল্লাহ! আমি বড় সৌভাগ্যবান যে, এই মসজিদে আসতে পেরেছি। এই এলাকায় আসতে পেরেছি। এই এলাকায় যদিও আগে একবার আসা হয়েছে, তবে এই মহল্লায় আসা হয়নি। এই মহল্লায় প্রথম আসা হল। আমি আমাদের মুরুব্বী হযরত প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান সাহেব হুযূরের কাছ থেকে প্রায় দুই যুগ ধরে এই মহল্লার এবং এই মহল্লার পূর্বপুরুষদের গল্প শুনেছি। অনেক আগ্রহ ছিল এখানে আসার। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সেই আশা আজ পূরণ করেছেন। সেজন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের শোকর আদায় করি, আলহামদু লিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা হযরতকে আফিয়াত-সালামতের সাথে, সিহহত-কুওয়তের সাথে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন– আমীন।

আমাদের উপর পরীক্ষা এসেছে

আজকের এই মজলিস যে বিষয়ে আলোচনার জন্য, সেই বিষয়টি অনেক বেদনাদায়ক, অনেক কষ্টদায়ক। প্রথম যে বিষয়টা আমাদের জানা থাকা দরকার তা হল, মানুষের উপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হালাত আসে। বিভিন্ন মুসীবত আসে। পরীক্ষা আসে। দ্বীনের যে কাজগুলো আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে দান করেছেন সেগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি হল, দাওয়াত ও তাবলীগ। দাওয়াত ও তাবলীগের অনেক পদ্ধতি ছিল, আছে। ঐ পদ্ধতিগুলোর মধ্য থেকে হযরত মাওলানা ইলিয়াস রাহ. যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন সেটি তিনি মুরুব্বীদের সাথে পরামর্শ করে, তাঁর উস্তাযদের সাথে পরামর্শ করে, তাঁদের দুআ নিয়ে এবং অনেক ইস্তিখারা করে নির্বাচন করেছেন। অন্য পদ্ধতিগুলোকে তিনি গলত বলেননি। অর্থাৎ অন্য অনেক পদ্ধতি ছিল এবং আছে। পাশাপাশি এটাও মেহনতের একটা তরীকা। তো এই তরীকাটি আল্লাহর মেহেরবানীতে অনেক উপকারী সাব্যস্ত হয়েছে। অনেক ফায়দা এর দ্বারা হয়েছে, হচ্ছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে। তো দাওয়াত ও তাবলীগের এই তরীকার উপর বড় একটা পরীক্ষা এসেছে। মানুষের ব্যক্তিজীবনে, পারিবারিক জীবনে, সামাজিক জীবনে এবং এধরনের ইজতিমায়ী কাজ যেগুলো আছে, সেগুলোতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন হালাত আসে। হালাত যখন আসে তখন একজন মুমিনের দায়িত্ব হল, এই হালাতে তার করণীয় কী– তা জানা এবং এই হালাত কেন আসল, এই পরীক্ষা কেন আসল, এখান থেকে আমার কী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে– সেটাও চিন্তা করা। হালাত তো আল্লাহ তাআলা দেন গাফলত ও উদাসীনতা দূর করার জন্য। হালাত আসলে যদি গাফলত বেড়ে যায় তাহলে আল্লাহ তাআলা নারাজ হন। সেজন্য আমাদের খুব খেয়াল রাখা দরকার যে, এই পরীক্ষা থেকে আমাদেরকে কী শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে কী সবক নিতে হবে? সেটা আমাদেরকে আলেমদের থেকে জেনে নিতে হবে। আমাদের করণীয় কী– সেটা আলেমদের থেকে বুঝে নিতে হবে। তো এই বিষয়ে দেখা যাচ্ছে আমাদের খুব ত্রুটি হচ্ছে। আমরা জানারই চেষ্টা করছি না যে, এই হালতে আমাদের করণীয় কী? সবার কথা বলছি না। তবে আমরা অনেকেই আমাদের করণীয় এবং এখান থেকে আমাদের কী সবক হাসিল করতে হবে সেটা জানারই চেষ্টা করছি না।

যাইহোক, শুধু আজকের এই এক মজলিসে তো আর সব বিষয় আলোচনা করা যাবে না। তাই সংক্ষিপ্ত কিছু কথা আরজ করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

কী হালত এসেছে?

হালাত যেটা এসেছে সেটা হল, যে মিম্বর থেকে আমরা হেদায়েতের কথা শুনতাম, যে কাজের যিম্মাদারদের থেকে হেদায়েতের কথা শুনতাম, দ্বীনী রাহনুমায়ী পেতাম, ঐ কাজের যিম্মাদারদের বিশেষ এক ব্যক্তি থেকে এখন এমন কথা শোনা যাচ্ছে, যেগুলো হেদায়েতের কথা নয়; গোমরাহীর কথা। যে মিম্বর থেকে হেদায়েতের কথা আসত সেই মিম্বরে যখন বিশেষ এক ব্যক্তি বসেন তখন এমন লাগামহীন কথা আসে, যেগুলো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের ইজমা পরিপন্থী। দলীলবিহীন, দলীল পরিপন্থী। যে কাজের যিম্মাদারদের দায়িত্ব হল দলীলবিহীন বা দলীল পরিপন্থী কোনো কথা না বলা, অনুমান করে কোনো কথা না বলা, সেখান থেকে এখন অনুমানভিত্তিক কথা, গায়বী কথা বলে দিচ্ছে, যার কোনো দলীল নেই। এমন চলছে বেশ কয়েক বছর থেকে। ভিতরে ভিতরে চেষ্টা করা হয়েছে। জনতার সামনে প্রকাশ করা হয়নি। একাকী, ঘরে বসে, লিখিত কিছু পেশ করে, মুরুব্বীরা গিয়ে, সহকর্মীরা গিয়ে, এরা সবাই আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন যে, ভিতরে ভিতরেই এর সমাধান হয়ে যাক। ইসলাহ হয়ে যাক। কিন্তু ইসলাহ হয়নি। বিশেষভাবে ছয়-সাত বছর থেকে তো বেশ জোরালোভাবেই এই চেষ্টা, এই ফিকির চলছে। সেই চেষ্টাটা সফল হয়নি। যখন সফল হয়নি তখনই কথা বাইরে এসে গেছে। কথা কিন্তু প্রথমেই বাইরে আসেনি। ঐ চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার কারণে কথা বাইরে এসেছে।

তো এই অবস্থায় আমাদের প্রতি শরীয়তের কী মাসআলা? এটা তো জানতে হবে। অবহেলা করলে তো হবে না। এমনি ছেড়ে দিলে হবে না।

এমনি তো ছেড়ে দিবেন নিজের জমি, যেটা আপনার পাওনা। যখন আপনার কোনো পড়শি সেই জমি দাবি করছে তখন আপনি বললেন, এটা নিয়ে ঝগড়া করব? মামলা মোকাদ্দমা করব? ও যখন মানে না, থাক। এটা ওরই থাকুক। ছেলেদেরকে বললেন, যা তোরা আর এই জমি দাবি করবি না। ছেড়ে দে। এটা আপনি করতে পারেন। আপনার সম্পত্তি আপনি ছেড়ে দিতে পারেন। কিন্তু দ্বীনের মাসআলার ব্যাপারে কি এটা চলবে? যখন গলত কথা, গোমরাহীর কথা বলা হচ্ছে। সতর্ক করার পরেও ওটার উপরে অটল অনড়, ওটার পক্ষে আরো জরাহ, অন্যায় পক্ষপাত। এই সুরতে কোনো দ্বীনী কাজের যিম্মাদার, যার বয়ান মানুষ হেদায়েতের কথা মনে করে, যার কিছু বলাকে মানুষ দ্বীনী রাহবরী মনে করে; এমন ব্যক্তিকে কি অনুসরণীয় হিসাবে গ্রহণ করা যায়? কখনো এবং কিছুতেই গ্রহণ করা যায় না।

একটা হল, একজনকে আপনি কোনো ব্যবস্থাপনাগত কাজের দায়িত্ব দিলেন। যেমন মসজিদের কাজ হয়, সেখানে দেখা যায় এমন লোকও কাজ করে, যে নামাযও পড়ে না। যদিও এটা ঠিক না। মসজিদের কাজ করব আমি, কিন্তু ফরয নামায পড়ব না, এটা কেমন কথা? মিস্ত্রিরা নামাযী হয়ে যাওয়া দরকার। অনেক সময় ইমাম সাহেব, মুআযযিন সাহেব তাদের পিছনে মেহনত করেন। তখন কেউ কেউ নামায ধরে, কেউ কেউ ধরে না। হয় না?

ঠিক আছে। কিন্তু আপনি বলবেন, সে তো ইট এনে দিচ্ছে, সিমেন্ট এনে দিচ্ছে। সে তো মিম্বারে বসে কথা বলে না। জুমার দিন বয়ান করে না। সেজন্য যদি আপনি তাকে এই কাজের সুযোগ দেন তাহলে জায়েয হবে কি না? হবে। যদিও তার উচিত ছিল নামাযী হয়ে যাওয়া। আপনিও মেহনত করবেন, দাওয়াত দিবেন, ঠিক আছে। কিন্তু সে দাওয়াত গ্রহণ করল না। এজন্য কি আপনি তাকে তাড়িয়ে দিতে হবে?

কিন্তু সে যদি এসে মিম্বারে বসে, মেহরাবে দাঁড়ায়। ইমামতি করার জন্য মেহরাবে দাঁড়িয়ে যায়। মিম্বারে বসে বয়ান শুরু করে, তাহলে কেমন হয়?

খবরদার তুলনা করছি না কিন্তু। দুটি বিষয় যে ভিন্ন ভিন্ন তা বলতে চাচ্ছি; একটি ইনতেযামী দায়িত্ব, আরেকটি দ্বীনী দায়িত্ব।

আমার কাছে হাসির একটা গল্প আছে। দারুল উলূম করাচীর দারুল ইফতায় একবার রাজমিস্ত্রির কাজের দরকার হয়েছে। সেজন্য দারুল ইফতার যে নির্ধারিত সময় সেসময়ের বাইরে দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। রমযান মাস ছিল। মিস্ত্রিরা কাজ করছে। দারুল ইফতায় ফোন আসে। যারা ফোন করে মাসআলার জন্যই ফোন করে। শুধু মুফতী সাহেবরাই সেই ফোন ধরেন। অন্য কেউ সেই ফোন ধরে না। আমি দারুল ইফতার বরাবর উপরে কুতুবখানায় বসা। হঠাৎ দেখলাম একজন মিস্ত্রি ফোন ধরছে। আমি তো অবাক। কী কা- ঘটায় কে জানে! দ্রুত নেমে এলাম। অতক্ষণে সে মাসআলা বলে ফেলেছে। আশ্চর্য! মিস্ত্রি মাসআলা বলছে! আমি তার হাত থেকে ফোন নিয়ে সালাম দিয়ে ফোনদাতা ব্যক্তিকে বললাম, ভাই! দারুল ইফতার হুযূররা এখনো আসেননি। এতটার সময় হুযূররা আসবেন। আপনি ঐ সময় ফোন করে মাসআলা জেনে নিয়েন। যে আপনার সঙ্গে কথা বলেছে সে দায়িত্বশীল কেউ নয়। আমি এখানের ছাত্র। মাসআলা আমিও বলব না। মাসআলা বলবেন উস্তাদজীরা। এতটার সময়ে তাঁরা এলে আপনি ফোন করেন। একথা বলে আমি ফোন রেখে দিলাম।

তো বলতে চাচ্ছিলাম, যিম্মাদারীর ভাগ আছে। যদি কাউকে শুধু ব্যবস্থাপনাগত বিষয়ের যিম্মাদার বানান, যেমন মেহমানখানার যিম্মাদার বানালেন, তাশকীলের কামরার যিম্মাদার, বিদেশী মেহমানদের খিত্তার যিম্মাদার, এগুলো হল ব্যবস্থাপনাগত কাজের যিম্মাদার। এসব কাজের যিম্মাদারী এমন যে, তা এমন যে কোনো ব্যক্তিকেই দেওয়া যায়; যে বড়দের নির্দেশনা মোতাবেক দায়িত্ব পালন করতে পারে।

এটা এক ধরনের যিম্মাদারী। আরেকটা হলো দ্বীনী কাজের দ্বীনী যিম্মাদারী। দ্বীনী কাজের দ্বীনী বিষয়ের যিম্মাদার। মিম্বর যার যিম্মায়। তালীম যার যিম্মায়। হায়াতুস সাহাবার তালীম যার যিম্মায়। ওয়াপসীর হেদায়েতী কথা যার যিম্মায়। রওয়ানেগীর হেদায়েতী কথা যার যিম্মায়। এমন যিম্মাদার কে হতে হবে? যে হেদায়েতের কথা বলে সে-ই তো, নাকি? এখন হেদায়েতের কথার সাথে যদি গোমরাহীর কথা যুক্ত হতে থাকে! এক দিন, দুই দিন, তিন দিন! এক কথা, দুই কথা, তিন কথা! দশ কথা, বিশ কথা! হয়েই যাচ্ছে। তবুও সবাইকে খামোশ থাকতে হবে নাকি?!

তো দ্বীনী কাজের দ্বীনী কথাবার্তা, দ্বীনী রাহবরীর যিম্মাদারী যার উপর আসবে, সে যে-ই হোক, যারাই এই যিম্মাদারী পাবে তাদেরকে কি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের পুরো সহীহ আকীদাওয়ালা হতে হবে না? নিজেদের কথাবার্তা, চিন্তা-চেতনা, আকীদা-বিশ্বাস, রুচি-প্রকৃতি সর্বক্ষেত্রে সুন্নাতের অনুসারী হতে হবে না? যদি বিদআতী হয়! বিদআতী হওয়ার দুই অর্থ। একটা হল, বিদআতী কাজ করা। আরেকটা হল, বিদআত আবিষ্কার করা। কোনটা বেশি ভয়াবহ? যদি হেদায়েতের কথার মধ্যে বিদআতের আবিষ্কার হতে থাকে! ভয়াবহ কি না? এখানেও এই সমস্যা।

আমি এটাকে পরীক্ষা কেন বললাম? পরীক্ষা এজন্য বলেছি– এই কাজ এমন এক ব্যক্তি করছেন, যিনি আমাদের আস্থাভাজন ছিলেন, আমাদের মহব্বতের লোক; যার থেকে আমরা রাহবরী পেয়েছি, যার বয়ান শুনে শুনে কত মানুষ নামাযী হয়েছে। যার বয়ান শুনে শুনে কত মানুষের মধ্যে দ্বীনের তলব পয়দা হয়েছে। তার প্রতি আমাদের দিলে মহব্বত আছে কি নাই? আছে। কিন্তু তিনি এখন এই কাজ শুরু করেছেন। এত বছর যার বয়ান শুনে শুনে দ্বীন শিখলাম, নামাযের দিকে আসলাম। এখন এসব কী বলেন হুযূররা– তিনি নাকি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের বিরোধী কথা বলেন। তিনি নাকি গলত তাফসীর করেন। মনগড়া কথা বলেন। তিনি নাকি গলত ফতোয়া দেন। কী বলেন এসব! আসবিশ্বাস হয়? প্রশ্ন আসে কি না? আসে। আসতে পারে। আসা স্বাভাবিক। বরং আমি বলব, প্রথমবার শ্রবণের পর প্রশ্ন আসাই উচিত। যখন আপনি এক-দুইজনের কাছে শুনবেন, এক-দুই হুযূরের কাছে শুনবেন, প্রশ্ন আসবে। যেমন আপনি আপনার মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেবের কাছে শুনলেন, তখন ভাবতে পারেন– ইমাম সাহেবও হুযূর, মাওলানা সা‘দ সাহেবও হুযূর। ইমাম সাহেব মাওলানা সা‘দ সাহেবের ভুলের কথা বলেন। হয়ত আমাদের ইমাম সাহেবেরই ভুল হয়েছে। নাহ, আমরা তার প্রতি আস্থা হারাব না। এতদিনের আস্থা হারাব না। এমন হতে পারে কি পারে না? পারে। কিন্তু একদিন বললেন এই ইমাম সাহেব। আরেকদিন বললেন আরেক ইমাম সাহেব। এভাবে এই আলেম সেই আলেম। দেশের যিম্মাদার সকল আলেম। বিদেশের বড় বড় আলেম। সবাই বলছেন। কারো সাথে তো মাওলানা সা‘দ সাহেবের কোনো শত্রুতা নেই। তাহলে সবাই কেন এমন কথা বলছেন? নাহ, আমাদেরকে বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে।

মহব্বত তো হবে শুধু আল্লাহর জন্য

আমরা মাওলানা সা‘দ সাহেবকেও মহব্বত করি, হককেও মহব্বত করি। মাওলানা সা‘দ সাহেবকে মহব্বত করতাম আল্লাহর জন্য। নাকি তার নাম সা‘দ এইজন্য? নাকি তার বাড়ি কান্ধলা এইজন্য? নাকি তিনি নেযামুদ্দীন মসজিদের ইমাম এইজন্য? নাকি তিনি হযরত মাওলানা ইউসুফ সাহেব রাহ.-এর নাতি এইজন্য? কার জন্য মহব্বত করতাম? আল্লাহর জন্য। তিনি আল্লাহর দ্বীনের দিকে মানুষকে দাওয়াত দিচ্ছেন, হেদায়েতের কথা বলছেন, দ্বীনের রাহবরী করছেন– সেজন্য মহব্বত করতাম। এখন যখন সব আলেম বলছেন যে, এই মিম্বর থেকে অনেক গোমরাহীর কথা বলা শুরু হয়েছে। লাখো লাখো মানুষের ইজতিমার মধ্যে অনেক গোমরাহীর কথা এসে গেছে, তাকে বলার পরও, হাতে পায়ে ধরার পরও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন না। ইসলাহ করছেন না।

তার ভিন্ন একটা মেযাজ পয়দা হয়ে গেছে। মন-মানস, রুচি-প্রকৃতি, চিন্তা-চেতনা ভিন্ন ধরনের হয়ে গেছে। এখন তিনি তার মতো করেই সবকিছু বলতে থাকেন। তার মতো করেই ব্যাখ্যা দিতে থাকেন। সালাফের তরীকাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। সব আলেমরাই এমন কথা বলছেন। তো আমরা যেহেতু তাকে মহব্বত করতাম আল্লাহর জন্য, আল্লাহর দ্বীনের জন্য, দ্বীনের দিকে দাওয়াত দিচ্ছেন সেইজন্য, হেদায়েতের কথা বলছেন সেইজন্য, এখন হেদায়েতের জায়গায় গোমরাহীর কথা তিনি বলা শুরু করেছেন এবং এগুলো ধরিয়ে দেওয়ার পর ইসলাহও করছেন না। তাহলে আপাতত তার মহব্বত মওকুফ। মহব্বত মওকুফ মানে– এমন মহব্বত করব না যে, তার গলত কথাও শুনতে হবে। এই কথা বলব না যে, তিনি এগুলো শোধরানোর আগেও তার ইতাআত করতে হবে। এই কথা বলা কি জায়েয হবে?

এখন তার মহব্বত থাকবে অন্তরে, দুআ করার জন্য যে, আল্লাহ! আপনি তাকে সহীহ রাস্তায় আসার তাওফীক দান করেন। আমরা দুআ করি সবাই– হে আল্লাহ! হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেবকে সহীহ রাস্তায় আসার তাওফীক দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের সবাইকে আপনি হেদায়েতের উপর ইসতিকামাত নসীব করুন। হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেবকে হেদায়েত দান করুন। সহীহ সমঝ নসীব করুন। দ্বীনের তাফাক্কুহ দান করুন। ইলমের পরিপক্বতা দান করুন এবং আল্লাহওয়ালাদের সোহবত হাসিল করার তাওফীক নসীব করুন। ইলম এবং দ্বীনের সমঝ যেভাবে হাসিল করা উচিত সেভাবে হাসিল করার তাওফীক নসীব করুন। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সবাইকে কবুল করুন। দাওয়াত ও তাবলীগের মধ্যে যেই পেরেশানী ও সংকট চলছে সেই পেরেশানী ও সংকট আপনি দূর করে দিন। আমাদের এতাআতী ভাইদেরকে সহীহ সমঝ নসীব করুন। যারা উলামায়ে কেরামের নেগরানীতে দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনত জারি রাখতে চাচ্ছেন তাদেরকে আপনি হেদায়েতের উপর অটল রাখুন। তাদের ভুল-ত্রুটিগুলোও আপনি ক্ষমা করুন। যেই ক্ষেত্রে তাদের থেকে ভুল হয়ে যাচ্ছে সেগুলোর ইসলাহ করে দিন। তারা হকের দিকে দাওয়াত দিচ্ছে, এই দাওয়াত যেন সহীহ পদ্ধতিতে দিতে পারে আপনি তাওফীক দান করুন। কোনো ধরনের কোনো বাড়াবাড়িমূলক কথা, কোনো মুরুব্বীর ব্যাপারে অন্যায় কোনো কথা যেন আমাদের মুখ দিয়ে না বের হয়– সেই তাওফীক আমাদেরকে দান করুন– আল্লাহুম্মা আমীন।

মহব্বত করব, তার জন্য দুআ করব। এমন নয় যে, এই সব গলত ও গোমরাহীর কথাসহ তার এতাআত করতে হবে। কারণ এমন কথা যদি বলি, তাহলে আল্লাহ নারাজ হবেন। এই হল কথা।

এই হালতে করণীয় কী ছিল?

তো দরকার ছিল, দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ যেভাবে মুরুব্বীরা শিখিয়ে দিয়ে গেছেন,… হযরত মাওলানা যুবায়ের ছাহেব, মাওলানা রবীউল হক ছাহেবসহ উলামায়ে কেরাম যারা আছেন কাকরাইলে, তারা কি দাওয়াত ও তাবলীগের কাজে হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেবের পরে লেগেছেন না আগে? আগে। অনেক আগে। তাদের দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতটা কি মাঠে-ময়দানে মেহনত থেকে, চিল্লা-সাল থেকে শুরু হয়েছে নাকি কুরসীতে বসে বয়ানের মাধ্যমে শুরু হয়েছে? চিল্লা, সাল অর্থাৎ ময়দানে মেহনতের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। কুরসীর বয়ান থেকে শুরু হয়নি। তারা কাজ শিখেছেন মাওলানা সা‘দ সাহেবের আব্বাজানের মুরুব্বী যারা, তাদের কাছ থেকে, না আজকালের কারো কাছ থেকে? মাওলানা সা‘দ সাহেবের আব্বাজানের মুরুব্বী যারা তাদের কাছ থেকে তারা কাজ শিখেছেন।

তো উলামায়ে কেরাম বলছেন যে, ভাই কাজ উদ্দেশ্য, নাকি নাম উদ্দেশ্য? কাজ উদ্দেশ্য। নাকি বলবেন, কোনো বিশেষ ব্যক্তির নাম উদ্দেশ্য? কাজ উদ্দেশ্য। কাজ যেহেতু উদ্দেশ্য তাই মাওলানা সা‘দ সাহেবের বিভিন্ন আপত্তিকর কথা, কঠিন কঠিন ভুল, এগুলোর ইসলাহ না করা সত্ত্বেও তাকে দাওয়াত দিয়ে এখানে আনব, এটা তো হয় না। তিনি আগে এসেছেন, এসেছেন। এখন জিনিসগুলোর ইসলাহ করে নিন। এক-দুই বছর তিনি না আসুন। কাজ চলুক। কাজের তো দরকার। কাজ আমরা স্থানীয় মুরুব্বীদের তত্ত্বাবধানে করতে থাকি আর তিনি এর মধ্যে ইসলাহ হয়ে যান। যে মুরুব্বীরা সা‘দ সাহেবের এইসমস্ত গলত কথার ইসলাহ হয় না দেখে শেষ পর্যন্ত নিযামুদ্দীন থেকে চলে গেছেন। চিঠি দিয়ে গেছেন যে, ইসলাহ হলে আমরা আবার আসব। নিযামুদ্দীন আমাদের ঘর। ইসলাহ হওয়ার আগে আমরা এখানে থাকতে পারছি না। যেহেতু ইসলাহের চেষ্টা করে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। ইসলাহ হচ্ছে না।

তো তাদেরকেও মাওলানা সা‘দ সাহেব নিয়ে আসুন যে, আপনারা যেই ভুল ধরেছেন যেসব সংশোধনী দিয়েছেন আল্লাহর রহমতে আমি এগুলো মানতে রাজি এবং কাজ ইনশাআল্লাহ মশোয়ারার মাধ্যমে চলবে। আপনারা আসেন। এইভাবে মাওলানা সা‘দ সাহেব এবং ঐসকল মুরুব্বীদের মাঝে সমঝোতা হয়ে যাক, সা‘দ সাহেব নিজের ভুলগুলোর ইসলাহ করে নেন। আগে যেমন অন্যান্য মুরুব্বীদের সাথে তিনি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ মুরুব্বী ছিলেন সামনেও তিনি আমাদের মুরুব্বী। তবে এই জিনিসগুলোর ইসলাহ হয়ে যাক। ইসলাহ হয়ে গেলে তাঁদের মাঝে সমঝোতাও হয়ে যাবে। এর আগ পর্যন্ত আমরা আমাদের এখানে যেসমস্ত মুরুব্বীরা আছেন, তাদের নেগরানীতে, তত্ত্বাবধানে কাজ করতে থাকি।

সুন্দর পরামর্শটি শুনলেন না তারা

উলামায়ে কেরাম এই পরামর্শ দিয়েছেন। এটা খারাপ পরামর্শ না ভালো পরামর্শ? ভালো পরামর্শ। কিন্তু তারা এই পরামর্শ মানতে পারেননি। এই সুন্দর পরামর্শটা মানতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। ব্যর্থ হয়ে খামোশ যদি থাকতেন তাও একটা কথা ছিল। কিন্তু খামোশ থাকেননি। বিভক্তি শুরু করেছেন। বিভক্তি করতে করতে নামই দিয়ে দিয়েছেন এতাআতী জামাত। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

এমন গুরুত্বপূর্ণ মেহনতের মধ্যে এই বিভক্তি করে দেওয়া হল! দরকার ছিল এক থাকার। হকের ভিত্তিতে এক থাকার দরকার ছিল। এক রাহো, নেক রাহো। হকের ভিত্তিতে এক থাকার দরকার ছিল। কিন্তু হল না। এটা এক অপরাধ। বিভক্ত হয়ে যাওয়া ছোট অপরাধ না বড় অপরাধ? বড় অপরাধ। এরপর উলামায়ে কেরাম বোঝানোর মেহনত করে যাচ্ছেন। চেষ্টার পর চেষ্টা চলছে। দরকার ছিল আবার এক হয়ে যাওয়ার। আমার এত কষ্ট লাগে যখন শুনি, অমুক মারকায দুই দিন এদের হাতে, দুই দিন ওদের হাতে। দুই দিন এদের হাতে, চার দিন ওদের হাতে। এদের শবগুযারী এই তারিখে, ওদের শবগুযারী ঐ তারিখে। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। অনেক লজ্জা পাই, যখন এমন কথা শুনি।

এইসব ভাগাভাগি তো হয় ঐ জায়গায়, যেখানে ধন-সম্পদের দ্বন্দ্ব। যেখানে পদ এবং পদবি নিয়ে দ্বন্দ্ব। যেখানে হক এবং নাহকের দ্বন্দ্ব সেখানে এমন ভাগাভাগি হয়? সেখানে তো হকের ভিত্তিতে এক থাকতে হয়। কিন্তু সেটাও হচ্ছে না। বিভক্তি না হওয়া দরকার ছিল, কিন্তু বিভক্ত করে দেওয়া হল। একটা অপরাধ। বিভক্তির পর এক হয়ে যাওয়া দরকার ছিল। সেটা হচ্ছে না, এটা দ্বিতীয় অপরাধ। আমি অনুরোধ করি, এই দ্বিতীয় অপরাধ থেকে বের হয়ে এসে হকের ভিত্তিতে এক হয়ে যান।

এত বছর আমরা ঈমান শিখেছি। ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ শাখা– হক মানার যোগ্যতা পয়দা করা। হক যদি আমার বাপের বিরুদ্ধে যায়, আমার মহল্লার আমীরের বিরুদ্ধে যায়, যে আমাকে তাবলীগে নিয়ে এসেছে তার বিরুদ্ধে যায়। তাহলে তাকে তো আমি মহব্বত করব, তার ইহসানের শোকর আদায় করব। তার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকব। সে ইন্তিকাল করে গেলে তার জন্য ঈসালে সওয়াব করতে থাকব। সব ঠিক আছে। কিন্তু গলত কথার মধ্যে তার পিছনে হাঁটব? না। আমাকে সে তাবলীগে নিয়ে এসেছে, আমার উপকার করেছে। ঠিক আছে। কিন্তু এখন আমি তার পিছে পিছে হাঁটতে থাকলে তো আমি গোমরাহ হব। এতে কি তার ফায়দা হবে? আমি যদি হকের উপর থাকি তাহলে না তার ফায়দা হবে। তার কারণে আমি গোমরাহ হলে তো তার গোনাহ বাড়তে থাকবে। এর চেয়ে বরং আমি চেষ্টা করব– হাতে পায়ে ধরে কীভাবে তাকে হকের দিকে আনতে পারি।

তৃতীয় অপরাধটি না করি

আমার অনুরোধ হল, এখনো সময় আছে, হকের ভিত্তিতে আমরা এক হয়ে যাই। যদি না হই তাহলে তৃতীয় অপরাধ কমপক্ষে আমরা কেউ না করি। তার আগে বলেন, দুই ভাগ হয়ে যাওয়ার পরও উভয় দলই তো তাবলীগ, নাকি ভিন্ন কিছু? তাবলীগ। তো তাবলীগের একটা মূলনীতি তো ইকরামুল মুসলিমীন। এই মূলনীতিটা আমরা রক্ষা করি। বি. বাড়িয়ায় যা ঘটল এটা কি ইকরামুল মুসলিমীন? কাকরাইলে যা ঘটছে, সেটা কি ইকরামুল মুসলিমীন? এই মূলনীতিটা ধরে রাখি। এই মূলনীতি লঙ্ঘনের অপরাধ না করি। তাবলীগের ঐতিহ্য ধরে রাখি। তাবলীগের ঐতিহ্য কী? ফাযায়েলের ইলম তালীমের হালকায় শিখব। মাসায়েলের ইলম আলেমদের কাছ থেকে শিখব। এই ঐতিহ্য ধরে রাখি। কমপক্ষে আপনারা নিজেদেরকে যে এতাআতী নাম দিয়েছেন সেটা কার এতাআত? সা‘দ সাহেবেরই তো। নিযামুদ্দীনের এতাআতই তো। তো মাওলানা সা‘দ সাহেবের শুধু গলত কথাগুলোরই এতাআত করবেন? তার দুয়েকটি সহীহ কথারও এতাআত করুন! তিনি নিযামুদ্দীনে বলেছেন। কাকরাইলে বলেছেন। চিঠিপত্রে লিখেছেন। আমি একেবারে তার ভাষায় তার কথাগুলো আপনাদেরকে শোনাচ্ছি–

ডিসেম্বরের দুই তারিখ ২০১৭। এই তারিখে নিযামুদ্দীন মারকাযে এশার পরে হায়াতুস সাহাবার তালীমে হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেব বলেছেন–

محترم بزرگو عزیزو! علم عمل کی کسوٹی ہے، علم وعمل کو علماء پر پیش کرو، علماء قائد ہیں، علماء مقتدیٰ ہیں، اور امت مقتدی ہے، علماء اس لئے مقتدیٰ ہیں کہ اصل علم امام ہے، ہم قدم قدم پر اقوال وافعال واعمال میں علماء کے تابع ہیں، علماء کی رہبری اور ان کی طرف سے ملنے والی ہدایات یہ بنیادی بات ہے، اس لئے کہ علم سے ہٹ کر جہل اور ضلالت ہے، اس لئے ہمیں چاہئے کہ ہر بیان اور ہر قول وعمل میں یہ دیکھیں کہ علمائے حق کیا فرماتے ہیں، صحابۂ کرام اور خلفائے راشدین اس بارے میں سب سے زیادہ ڈرنے والے تھے، میرا قول وعمل علم کے مطابق ہے یا خلاف؟

‘বন্ধুরা আমার! ইলম হল আমলের কষ্টিপাথর। (মানে, আমল সহীহ না গলত এটা নির্ণয় হবে কী দিয়ে? ইলম দিয়ে।) যা শিখেছ এবং যা আমল করছ এটা আলেমদের সামনে পেশ কর। আলেমগণ হলেন আমাদের দ্বীনী রাহবার। তাঁরা আমাদের অনুসরণীয়। উম্মত হল মুকতাদী। আলেমগণ মুকতাদা বা অনুসরণীয়; এইজন্য যে, ইলম হল সবকিছুর ইমাম। সকল ক্ষেত্রে প্রতি কদমে আমরা উলামায়ে কেরামের অধীন। আলেমগণ যে রাহবরী করবেন, দ্বীনী বিষয়ে তাঁরা যে রাস্তা দেখাবেন, তাদের কাছ থেকে আমরা যে হেদায়েতগুলো পাব এটা হল আসল জিনিস। ইলম থেকে সরে গেলেই মূর্খতা এবং গোমরাহী। এজন্য আমাদের উচিত, আমরা যে বয়ান করছি, যা বলছি, যে আমল করছি, সেগুলোর ক্ষেত্রে আমাদেরকে দেখতে হবে, ওলামায়ে হক কী বলেন। সাহাবায়ে কেরাম এবং খোলাফায়ে রাশেদীন এ ব্যাপারে সবচে বেশি ভয় করতেন যে, আমার কথা ও কাজ ইলম অনুযায়ী হচ্ছে, না তার খেলাফ?’

এই পুরো বক্তব্য হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেবের। আপনারা যে কেউ নেটে সার্চ দিয়ে শুনতে পারেন। যারা নেট ব্যবহার করেন তাদেরকে বলছি। যারা নেট ব্যবহার করেন না, আমি কখনো তাদেরকে পরামর্শ দিব না যে, আপনারা নেটে ঢুকুন! কখনো দিব না। আমরা এটা পছন্দ করি না। কিন্তু যারা অভ্যস্ত, তারা নেটে সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন ডিসেম্বরের ২ তারিখ ২০১৭ নিজামুদ্দীনে হায়াতুস সাহাবার তা‘লীম।

তার এই বক্তব্য স্পষ্ট এবং সহীহ। যারা মাওলানা সা‘দ সাহেব-এর এতাআতের কথা বলে, এ কথাগুলো তারা মানে না কেন? এতাআতী ভাইদের এ কথাগুলো মানা উচিত কি না? উচিত।

তারপরেই কাকরাইলে যখন আসলেন, ২০১৮-এর ইজতেমা উপলক্ষে। অর্থাৎ ডিসেম্বরের ২ তারিখ ২০১৭ নিযামুদ্দীনে আলোচনা করার পর ২০১৮-এর জানুয়ারিতে যখন ঢাকায় আসলেন, ইজতেমার মাঠে যাওয়া হল না। কাকরাইল মসজিদে অবস্থান করেছিলেন। সেখানেও তিনি আলোচনা করেছেন, আলোচনার শুরুতে তিনি বলেছেন–

علماء کے اعتراض کو اپنی اصلاح کا ذریعہ اور انکے ٹوکنے کو انکا اپنے اوپر احسان یقین کریں.

অর্থাৎ আলেমরা যদি কোনো আপত্তি করেন যে, ভাই! তোমার এ কথা সহীহ হচ্ছে না। তোমার এ কাজটা ঠিক হচ্ছে না। তাহলে এটাকে নিজের ইসলাহের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ কর। আর তারা যখন রোক-টোক করেন, এটাকে ইহসান এবং অনুগ্রহ হিসেবে ধর যে, তারা তো আমাদের উপর ইহসান করছেন।

اس لئے کہ علماء جو بات فرمائیںگے اس میں عمل کی قبولیت اور اس میں ہی عمل کا صحیح ہونا ہے.

আলেমরা যেটা বলবেন, যে দ্বীনী হেদায়েত দিবেন, সেটা মানলেই তোমার আমলটা কবুল হবে এবং সহীহ হবে।

اس طرح ہم علماء سے علمی استفادہ بھی کریں اور اگر علماء کسی بات پر اعتراض کریں یا کسی بات کو ٹوکیں تو اس کو قبول بھی کریں.

তাই আমরা আলেমদের থেকে ইলম হাসিল করব। আর আমাদের কোনো কথার ওপর যদি তারা আপত্তি করেন, কোনো বিষয়ে যদি তারা রোক-টোক করেন, তাও আমরা গ্রহণ করব।

ইহসান হিসেবে গ্রহণ করার জন্য মাওলানা সা‘দ সাহেব বলেছেন। তার এ কথা সহীহ না গলত? সহীহ। তো আমরা তার সহীহ কথার কেন এতাআত করছি না? একথা আমাদের সবার জন্য। এতাআতী ভাইরা যখন তার এতাআতের নাম নিচ্ছেন, তাদের জন্য তো অবশ্যই।

তৃতীয় অপরাধের দিকগুলো

তো আমি বলছি, তৃতীয় অপরাধ না করি। তৃতীয় অপরাধের সবচেয়ে কঠিন দিকটি হল, সা‘দ সাহেবের এতাআতের নাম নিচ্ছি, কিন্তু তার সহীহ কথাগুলোর এতাআত করছি না। আল্লাহ তাআলা এটা থেকে আমাদেরকে বাঁচার তাওফীক দান করুন।

দ্বিতীয় কথা, ভাই! খুব খেয়াল করে শুনি। খুব খেয়াল করে শুনি। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সেটা হল, কিছু বিষয় আছে কাঁচা কবীরা গুনাহ। যেমন গীবত কবিরা গুনাহ নয় কি? আচ্ছা, গীবতের প্রসঙ্গ যখন এসেছে, একটা কথা আগে বলে রাখি। আমি হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেবের ভুলগুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করেছি। এটা গীবত নয়। এটা হল দ্বীনী দায়িত্ব পালন। হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেবের ব্যক্তিগত কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি না। ব্যক্তি মাওলানা সা‘দ তার ঘরোয়া বিষয় বা তার ব্যক্তিগত বিষয়ে মানুষ হিসেবে তার ভুল-ত্রুটি থাকতেই পারে। এই ধরনের কোনো কথা আমি বলিনি এবং কখনো বলব না– ইনশাআল্লাহ। কারণ সেটা গীবত।

এখন যা বলছি এটা খায়েরখাহী। এটাকে বলে ‘আন-নসীহা’। একটা হল গীবত। আরেকটা হল নসীহা। নসীহা মানে কল্যাণকামিতা। গীবত মানে, অন্যের দোষ চর্চা। আরেকজন দ্বীনের বিষয়ে ভুল বলছে, সে ভুল ধরিয়ে দেওয়া গীবত নয়; বরং কল্যাণকামিতা। যে ভুল করেছে তার জন্যও কল্যাণকামিতা। যাদের সামনে ভুল বলা হচ্ছে তাদের জন্যও কল্যাণকামিতা। যারা এ ভুলের এতাআত করবে তাদের জন্যও কল্যাণকামিতা। এটাকে আরবীতে বলে আন-নসীহা, কল্যাণকামিতা– খায়েরখাহী। এটাকে গীবত বলে না। গীবত হল দোষচর্চা, পরনিন্দা। গীবত হারাম।

এখন দেখা যাচ্ছে আমরা ভুলগুলোর ইসলাহ না করে লড়াই ঝগড়ায় লিপ্ত হয়ে গেছি। এটাই তো ছিল বড় গোনাহ। এরপর আবার একে অপরের গীবত করে যাচ্ছি। এখন একজন আরেকজনের গীবত করে কি করে না? করে। সেটা হারাম কি না? হারাম। এজন্য সেটা থেকে বেঁচে থাকতে হবে। কিন্তু দুঃখের কথা হল, এ গীবত থেকে তো বাঁচে না, উল্টো আলেমরা যে দ্বীনী দায়িত্ব পালন করেন, সেটাকেই গীবত বলছে। তাদের কেউ কেউ ওয়াজাহাতী জোড়গুলোর নাম দিচ্ছে গীবতের মজলিস। আমি মাওলানা সা‘দ সাহেবের কী গীবত করেছি? ব্যক্তি মাওলানা সা‘দের কোনো সমালোচনা কি আমি করেছি? তার বক্তব্য যে গোমরাহির বক্তব্য সেটা নিয়ে আমি কথা বলছি, আল্লাহ আমাদের সবাইকে গীবত থেকে রক্ষা করুন– আমীন।

প্রথমত, গীবতের গুনাহ থেকে আমরা সবাই বাঁচার চেষ্টা করি। দুই, মিথ্যা বলা থেকে বাঁচার চেষ্টা করি। কারো সাথে যখন আমার দ্বন্দ্ব হয়ে গেছে এখন কি তার ব্যাপারে মিথ্যা বলা জায়েয হয়ে যাবে? না। কেউ মিথ্যাচার করেনি, কিন্তু আপনি বললেন যে, মিথ্যাচার করেছে– এটা কি অপবাদ হবে না? কারো ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ লাগানো জায়েয আছে? না। এমনকি হকের প্রতি দাওয়াত দেওয়ার জন্যও কি মিথ্যা বলা জায়েয হবে? তাহলে কেউ যদি গলত রাস্তায় থাকে এবং সে গলত রাস্তার দিকেই দাওয়াত দেওয়ার জন্য মিথ্যা বলে, জায়েয হবে? কিছুতেই জায়েয হবে না। আফসোস! অন্যকে ধোঁকা দিচ্ছে, মিথ্যা বলছে, পরনিন্দা করছে, অপবাদ দিচ্ছে, গালমন্দ করছে, নাম বিগড়াচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে এইসবের সয়লাব। তথ্যসন্ত্রাস এবং বাস্তবতাবিকৃতির কোনো শেষ নেই। এখন তো এমনকি হাতও ব্যবহার করছে, লাঠি ব্যবহার করছে। এ কাজগুলো হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ আছে? এগুলো কি তাবলীগের ঐতিহ্যের সাথে মিলে? না। হকের দাওয়াত যারা সহীহ পদ্ধতিতে দেয় এবং হকের ওপরে আছে তাদের জন্যও কি এ কাজগুলো জায়েয হবে? কখনো হবে না। আর যারা গলত রাস্তায় আছে, গলতের দিকে দাওয়াত দেওয়ার সময় তাদের জন্য এ কাজগুলোর কোনোটা করা জায়েয হবে? হবে না। এগুলো কাঁচা কবীরা গুনাহ। আপনারা যারা উলামায়ে কেরামের সঙ্গে থেকে হকের রাস্তায় আছেন, হক তরীকায় দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ করবেন, তাদের জন্যও এ কাজগুলো হারাম। খবরদার! কেউ এ ধরনের কোনো কাজ করবেন না। আর যারা এতাআতের নাম নিয়ে গলত রাস্তায় আছে, বিপথগামী হয়ে আছে, তারা তো এমনিতেই গলত রাস্তায় আছে। আবার সাথে যদি এসমস্ত গুনাহের কাজ করে, এসমস্ত কবীরা গুনাহের কোনোটা করে, তাহলে নিজের ওপর আরো বেশি জুলুম করল। এজন্য আমি তাদেরকেও হাতে পায়ে ধরে বলব, প্রথম অপরাধ থেকেই তো এখনো বের হয়ে আসতে পারেননি। মেহেরবানী করে তৃতীয় অপরাধ আট-দশটা মারাত্মক কবীরা গুনাহের সমষ্টি– এ তৃতীয় অপরাধটা করবেন না। আল্লাহর ওয়াস্তে ভাবুন! যদি আপনার ধারণা অনুযায়ী আপনারটাও তাবলীগের কাজ হয়– তাহলে তাবলীগের ঐতিহ্য ঠিক রাখুন! যারা হকের ওপরে আছে তাদের জন্য তো তাবলীগের ঐতিহ্য ঠিক রাখা আরো বেশি জরুরি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফীক নসীব করুন– আমীন।

আপনারা মনে করেছেন এটা আমার আলোচনার ভূমিকা। এটা আমার আলোচনার ভূমিকা নয়; বরং এটা আমার আলোচনার প্রথম কথা। এটা ভূমিকা নয় যে, আমি আসলে অন্য কথা বলার জন্য এটা ভূমিকা স্বরূপ বলছি; না, বরং আমি এ কথাগুলোও মাকসাদ হিসেবে বলতে চাচ্ছি এবং এ কথাগুলো আমার নিকট বেশি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে আমি আগে বলেছি। আমার আলোচনার এটা প্রথম পর্ব। আমি সবার হাতে পায়ে ধরে বলছি, মেহেরবানী করে এ কাঁচা কবীরা গুনাহগুলো আমরা কেউ না করি।

আলোচনার দ্বিতীয় পর্ব

অনেক ভাই-ই এটা বুঝতে চান। আর বুঝতে যেহেতু চান এজন্য কিছু কথা বলার জরুরত হয়ে যায়। তারা বুঝতে চান যে, আসলেই হযরত মাওলানা সা‘দ সাহেব এমন কী ভুল করে বসেছেন, যার কারণে এখন হুযূররা বলছেন যে, ইসলাহ হওয়ার আগে তিনি ইজতেমায় যেন না আসেন। এবং এ দেশে তার এতাআতের নামে কোনো কাজ হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ইসলাহ হয়ে যায়; বরং কাজ হবে তার পূর্ব-পুরুষগণ, যারা আমাদের আকাবির ছিলেন, তাদের হাতেগড়া যে মুরুব্বীগণ আমাদের এ দেশে আছেন তাদের তত্ত্বাবধানে।

এদেশে ছিলেন হযরত মাওলানা আবদুল আযীয রাহ., হযরত মাওলানা আলী আকবর রাহ.। এই যে মাওলানা যোবায়ের সাহেব, মাওলানা রবিউল হক সাহেব, ওনাদের হাতে গড়া নয়? আমি যাদের নাম নিলাম নতুন প্রজন্ম তো তাদের নামও শোনবে না। এরকম আরো উলামায়ে কেরাম ছিলেন। আহহা! নিজেদের ইতিহাস ভুলে যাওয়া কত বড় অন্যায়। কত বড় অপরাধ! এদেশে তাবলীগের কাজ মাত্র ত্রিশ-চল্লিশ বছর আগে শুরু হয়েছে, নাকি অনেক আগে শুরু হয়েছে? অনেক আগে। এদেশে ওয়াসিফুল ইসলাম ভাই দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ শুরু করেছেন? নাসিম ভাই শুরু করেছেন? না। কারা শুরু করেছেন? উলামায়ে কেরাম! খুলনার হযরত মাওলানা আবদুল আযীয রাহ., মাওলানা শামছুল হক ফরিদপুরী রাহ., হযরত মাওলানা আলী আকবর ছাহেব রাহ.। আচ্ছা, তাঁরা কি কাজ শিখেছেন মাওলানা সা‘দ সাহেবের কাছে? না। মাওলানা সা‘দের আব্বার কাছে? না। তারা বরং তাবলীগের প্রথম সারির আকাবিরের সোহবত পেয়েছেন। সুতরাং এ লোকদের হাতে গড়া মানুষের তত্ত্বাবধানে কাজ চলতে থাক। আর তার ইসলাহ হলে তিনি আসবেন।

মাওলানা সা‘দ সাহেবের ভুলগুলো কী?

তো মানুষ বুঝতে চায়– এমন কী মারাত্মক ভুল করে ফেলেছেন, যেটার ইসলাহের কথা আপনারা বলছেন? ভুল কার না হয়? তবে একটা হল ব্যক্তিগত আমলের ভুল, আরেকটা হল এমন ভুল যে, শরীয়তের বিধানে আঘাত পড়ে। আকীদাতে আঘাত পড়ে। দুটোর মাঝে পার্থক্য আছে কি না? আছে। বাংলা ভাষায় আমাদের যে সাধারণ ভাষা, আমরা ভুল শব্দটিকে পাইকারিভাবে অনেক প্রকারের জন্য ব্যবহার করি। বাংলা ভাষায়ও প্রত্যেকটার জন্য বিভিন্ন শব্দ থাকবে। সেটা যারা বাংলা ভালো জানেন তারা বলবেন। তো ভুলের অনেক প্রকার আছে। যেমন আপনি রোযা রেখেছেন– তারপর আজকে যে রোযা রেখেছেন, তা ভুলেই গেছেন। পিপাসা লেগেছে। সামনে পানি পেয়েছেন অন্য দিনের মত আজকেও এক গ্লাস পানি খেয়ে ফেলেছেন। পানি খাওয়া শেষ! এখন মনে পড়েছে হায়! আমি তো আজকে রোযা! মনেই নেই। পানি তো খেয়ে ফেললাম। এরকম হয় কি না? হয়। এটাও তো ভুল, তাই না? এ ভুল মাফ কি না? মাফ! রোযাটা কাযা করতে হবে না।

আচ্ছা, আপনার স্পষ্ট মনে আছে যে আপনি রোযা। বিলকুল ভুলেননি। অজু করতে গিয়ে কুলি করার সময় বে-খেয়ালিতে একটু পানি গলায় ঢুকে গেছে! অসতর্কতার কারণে বে-খেয়ালিতে পানি ঢুকে গেছে। কিন্তু আপনার মনে আছে আপনি রোযা। পানি যখন ঢুকে তখন বললেন হায়! আমি তো রোযা। পানি ঢুকে গেছে! এটাও তো ভুল, তাই না? আরবীতে এ ভুলকে বলে ‘খতা’। আগে যে ভুলের কথা বলেছি সেটা হল, ‘নিসয়ান’। অর্থাৎ রোযার কথা ভুলে পানি পান করে ফেলেছে বা কিছু খেয়ে ফেলেছে। আগেরটা নিসয়ান, আর এটা খতা, এখানেও গুনাহ হবে না। কিন্তু রোযার কাযা লাগবে। ভুলে ভুলে পার্থক্য হল কি না?

তিন নাম্বার, ছেলের বয়স ১৭ বছর। রমযানে পরীক্ষা দিয়ে রেখেছে সরকার। সরকারের তো আর এগুলোর হিসাব-কিতাব নেই। সেক্যুলার সরকারের আবার এগুলোর হিসাব-কিতাব থাকে নাকি? কিছু ব্যতিক্রম তো আছেই। কিন্তু সাধারণ নিয়ম হল দ্বীনের বিষয়গুলোকে খেয়াল করে না। না হয় পরীক্ষাটা তোমার রমযানে দেওয়ার দরকার কী? আচ্ছা, তো ছেলে সেহরী করে রোযার নিয়ত করেছে। কিন্তু মা বলেছে যে আরে, তুই রোযা ভেঙ্গে ফেল! না হয় তোর পরীক্ষা ভালো হবে না। নাম্বার কম পাবি, রোযাটা ভেঙ্গে ফেল! ছেলে ভাঙ্গতে না চাইলেও মা তাশকিল করে ভাঙ্গিয়ে দিয়েছে। তো ছেলের জন্য মায়ের কথা ধরে রোযাটা ভাঙ্গা জায়েয হয়েছে? এটা ছেলের জন্য ভুল হয়েছে কি না? হয়েছে। এ ভুল যে করল, এটা কোন্ পর্যায়ের ভুল? এক রোযার জন্য কয় রোযা কাফফারা? এটাও তো ভুল। কিন্তু এ ভুলের গুনাহ হবে কি না? হবে। কাফফারা দিতে হবে কি না? দিতে হবে। তাহলে আপনারা সব ভুলকে কেন এক মনে করেন?

ভুল কার না হয়, ভুল সবারই হয়, তা ঠিক আছে, কিন্তু সব ভুলের বিধান কি এক? সব ভুলের বিধান এক নয়। ভুলে ভুলে পার্থক্য আছে। ঠিক এরকম ব্যক্তি পর্যায়ের ভুল, ঘরোয়া ভুল, আমলের ভুল, আর আকীদার ভুল এক মাপের না। এক কথা না। ভুল কথা ঘরে বসে বললাম। দুজনে শুনল এবং তারাও বোঝে যে, এটা ভুল বলেছে, আমরা তা মানব না এবং কেউ মানেনি। তার ভুল তার মুখেই থেকে গেল। আরেকটা হল ভুল বললাম, লাখ লাখ মানুষের সামনে। সবাই ভাবছেন যে, তিনি হেদায়েতের কথা বলছেন, তিনি তাবলীগের কাজের যিম্মাদার। তিনি আমাদের দ্বীনী রাহবার। তিনি যা বলেন, কুরআন-হাদীস থেকে বলেন। এভাবে গ্রহণ করে নিচ্ছে, অথচ বলা হচ্ছে গলত কথা; এটা আর ঘরে বসে একজন ভুল কথা বলছে, দুটো কি এক সমান? ওটাতে চুপ থাকা যায়। কিন্তু এটাতে চুপ থাকা যাবে?

তো, আলেমরা বোঝেন যে, ভুলে ভুলে পার্থক্য আছে। বুঝে-শুনেই তো আলেমরা বলছেন এ কথা যে, ভাই এত মারাত্মক ভুল করা হচ্ছে, যার কারণে এখন আর এতাআত করা যাবে না; যতক্ষণ না তিনি ইসলাহ হন। এতাআতী ভাইয়েরা তো বলে যে, ভাই! ভুল কার না হয়? আহহা! তুমি যে কথা বোঝ, সে কথা কি আলেমরা বোঝেন না? ভুল তো হয়, সবারই হয়। কিন্তু ভুলে ভুলে পার্থক্য আছে।

গতকালও আমি তার বয়ান শুনেছি। হায়াতুস সাহাবা থেকে একটা আরবী ইবারত পড়ছেন। সেখানে مِقْسَم-এর জায়গায় مُقْسَم পড়লেন। শুদ্ধ হল م-এর নিচে যের। এখন কি আমি বাহিরে এলান দিব যে, তিনি مِقْسَم কে مُقْسَم পড়েছেন? কোনো দরকার আছে? এটা হয়ত বে-খেয়ালিতে হয়ে গেছে। বা এ শব্দে م -এর নিচে যের এটা তার জানা নেই। হতে পারে। এটাও এক ধরনের ভুল। আরেকটা হল বয়ানের মধ্যে একেবারে শরীয়তের বিধানের অপব্যাখ্যা হচ্ছে । এমন কথা বলা হচ্ছে, যাতে শরীয়তের বিধানে হাত পড়ছে। আকীদায় হাত পড়ছে। সেটা আরেক জিনিস। আমি ওই ভুলে চুপ করে থাকতে পারি, যেখানে مِقْسَم কে مُقْسَم পড়েছে। কিন্তু এ ভুলে চুপ করে থাকতে পারি না। এখন বুঝতে হবে যে, কেন উলামায়ে কেরাম নারাজ?

সবচে মারাত্মক ভুল

তার যে ভুলগুলোর কারণে সবাই পেরেশান। সেগুলোর একটা বলছি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নবী রাসূলদেরকে পাঠিয়েছেন হেদায়েতের জন্য। তাঁদের সীরাত এবং জীবনকে আল্লাহ তাআলা উম্মতের জন্য হেদায়েতে বানিয়েছেন। কুরআন শরীফে বলা হয়েছে اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ উত্তম আদর্শ। নির্ভুল আদর্শ।

لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِیْ رَسُوْلِ اللهِ اُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِّمَنْ كَانَ یَرْجُوا اللهَ وَ الْیَوْمَ الْاٰخِرَ .

নবী-রাসূলের সীরাত আমরা পড়ব এবং আলোচনা করব– সেখান থেকে হেদায়েত গ্রহণ করার জন্য। নাকি এমনভাবে আলোচনা করব যে, মনে হয় যেন ভুল ধরা হচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ। নবী-রাসূলদের সীরাত এভাবে আলোচনা করা জায়েয আছে? নবী-রাসূলের সীরাত-জীবনী বা তাঁদের কোনো ঘটনা এমনভাবে যদি কেউ আলোচনা করে যে, মনে হয় যেন নবীর ভুল ধরছে তাহলে সেটা কি জায়েয হবে? এ নাজায়েয কাজটা কি ছোট নাজায়েয না বড় নাজায়েয? এ রকম ভুল যদি কেউ করে এটা ছোট ভুল না বড় ভুল?

মাওলানা সা‘দ সাহেবের মারাত্মক এক সমস্যা হল, তিনি কখনো কখনো নবী-রাসূলদের সীরাত-জীবনী থেকে বিভিন্ন ঘটনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেটা একেবারে অসতর্ক উপস্থাপন। যেন নবীর ভুল ধরে দিচ্ছেন। যেন বলছেন যে, এখানে নবীর ভুল হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে নবীর অনুসরণ করা যাবে না। এ ভুল তিনি করেছেন, তোমরা খবরদার! এ ভুল করবে না। এমন ঢং এবং এমন ভঙ্গিতে তিনি বিভিন্ন সময় নবী-রাসূলদের সীরাত আলোচনা করেছেন। এ কাজটা নারাজ হওয়ার মত কি না? নারাজ হওয়ার মত। যদি এ ভুলের কেউ ইসলাহ গ্রহণ না করে বা একবার বলে যে, আমি রুজু করলাম, তারপর আবার সে ভুলই করে, একটা থেকে রুজু করে কিন্তু ঠিক এ ধরনের আরেক ভুল করে। তাহলে তার প্রতি কি আর আস্থা থাকে?

এ কাজ তিনি মূসা আ.-এর ব্যাপারে করেছেন। ইউসুফ আ.-এর ব্যাপারে করেছেন।

আপনারা অনেকে হয়ত জানেন যে, মূসা আ.-এর ব্যাপারে তিনি যেটা বলেছেন, পরে রুজু করেছেন। সেটা আমি পরে বলছি। আগে বিষয়টা শুনুন। কত বড় কঠিন আপত্তিকর কথা তিনি মূসা আ.-এর ব্যাপারে বলেছেন। আমি চাচ্ছি হুবহু তার উর্দূ বক্তব্যটা বলতে। আপনারা বিরক্ত হচ্ছেন না তো? বাংলায় অনুবাদ করলেও চলে, কিন্তু চাচ্ছি হুবহু বলি। তিনি যে ভাষায় বলেছেন, সে ভাষাটা সামনে আসুক, তারপর প্রয়োজনে অনুবাদও করব।

দেখুন! যে কথাটা তিনি বলেছেন, সেটা অনেক জায়গায় বলেছেন এবং বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে বলেছেন। যখন দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে তার সমস্ত আপত্তিকর কথার ওপরে একটা ফতোয়া আসল, ফতোয়া লেখা হয়েছে এখনো প্রকাশিত হয়নি, তিনি লোক পাঠিয়েছেন যে, আমি আমার ভুল থেকে রুজু করছি। ‘রুজু করা’ মানে ফেরত আসা। মানে ভুল স্বীকার করে ভুল থেকে আমি ফেরত আসতে প্রস্তুত। যেটা বলেছি সেটা ভুল ছিল, সহীহ কথা এই। আমি ভুল থেকে সহীহ কথার দিকে ফিরে আসতে প্রস্তুত। এ বলে লোক পাঠিয়েছেন। তখন যে লোকেরা দারুল উলূম দেওবন্দে এসেছে, তাদের হাতে সা‘দ সাহেবের যে যে কথাগুলো আপত্তিকর এবং গলত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ইজমা পরিপন্থী, নবীদের শানে এসমস্ত কথার কারণে বে-আদবী হয়, সেগুলোর একটা কপি দেওয়া হয়েছে। যেন তিনি দেখতে পারেন যে তার ভুলগুলো কী কী? দেখে তারপর যদি ফিরে আসে। আলহামদু লিল্লাহ দেখার পর তিনি একটা চিঠি পাঠিয়েছেন, যেটা তার প্রথম রুজুনামা। ‘নামা’ মানে পত্র। রুজুর পত্র। অর্থাৎ তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে সহীহ কথার দিকে চলে আসছি– এ মর্মে যে লেখা দিয়েছেন, সে লেখার নাম হল রুজু নামা। সবগুলো আমার কাছে আছে। কাগজগুলো সব আছে।

প্রথম রুজু নামার মধ্যে তিনি পত্রের শুরুতে ভুল স্বীকার করেছেন– যে আপনারা আমার বক্তব্যের যেগুলোকে আপত্তিকর ধরেছেন, আমি আমার ভুল স্বীকার করলাম এবং সবকিছু থেকে রুজু করলাম। তিনি লিখেছেন–

… اس سلسلہ میں جن سابقہ قدیم بیانات کا حوالہ تحریر گرامی میں دیا گیا ہے، احقر اسکو اپنا ایک دینی فریضہ سمجھتے ہوۓ اپنی جانب سے واضح الفاظ میں رجوع کرتا ہے، اور اللہ تعالی سے عفو ومغفرت کا طالب ہے…

কিন্তু একই পত্রের শেষে তিনি যা লিখেছেন, তার মর্ম এমন দাঁড়ায় যে, আপনারা আমার বিষয়ে যা যা লিখেছেন তা আমার ব্যাপারে বদগুমানি করে লিখেছেন। আমি এটাকে বদগুমানি মনে করি এবং আমি যা বলেছি, তার পক্ষে আমার কাছে যত হাওয়ালা-উদ্ধৃতি এবং রেফারেন্স আছে, সেগুলো আমি পাঠাব। তার উর্দূ বক্তব্যের অংশবিশেষ এই –

…آپ جیسے عالمی علمی دینی مرکز کے اہم ذمہ دار حضرات کو احقر و اسکے ساتھیوں کے افکار و خیالات، موقف و مسلک میں کسی قسم کی جو بدگمانی ہوئی ہے احقر اس کو نہایت افسوس ناک اور دعوت و تبلیغ والے مبارک عمل اور اس کے مرکز کے ساتھ عدم تعاون سمجھتا ہے …

نیز احقر کے بیانات پر جو اعتراض ہیں ان کے متعلق احقر کی کم علمی کے با وجود جو معلومات اور ان کے علمی مراجع وغیرہ ہیں آئندہ ارسال کرنے کی کوشش کی جائیگی۔

তাহলে বলুন, রুজু হল? আপনার কাছে যদি আপনার বক্তব্যের রেফারেন্স থাকে এবং আপনার নিকট আপনার কথা সহীহ বলে জানাচ্ছেন, তাহলে রুজু করবেন কেন?

এ লেখার ভিত্তিতে দারুল উলূম দেওবন্দ কি তার ফতোয়া ফেরত নিতে পারে? এজন্য দারুল উলূম দেওবন্দ চিঠি লিখেছে যে, আপনার লেখার শুরু থেকে রুজু বুঝা গেলেও শেষের বক্তব্য থেকে ভিন্ন কিছুই বুঝা যায়। কাজেই দারুল উলূম দেওবন্দ আপনার এসমস্ত বক্তব্যের কারণে যে ফতোয়া লিখেছে, আপনার বিষয়ে যে মাওকিফ এবং অবস্থান গ্রহণ করেছে সেটা এখন খাস লোকদের হাতে আমরা দিয়ে দিচ্ছি; মানে উলামায়ে কেরাম এবং তাবলীগেরই খাস লোক, যাদের এটা জানা দরকার এবং এ বিষয়ে যারা ব্যবস্থা নিতে পারে।

কেউ কেউ কপি সংগ্রহ করে নিজেদের থেকে নেটে দিয়ে দিয়েছে। পরে দারুল উলূম দেওবন্দ তার ওয়েব সাইটে ফতোয়ার কপি দিয়ে দিয়েছে। ফতোয়া এসে গেল। আসার কিছুদিন পর আবার তিনি আরেকটা রুজুনামা পাঠিয়েছেন। সেটা কিন্তু নতুন কিছু না; বরং প্রথম রুজুনামার শেষে যে লিখেছিলেন– আপনারা আমার ব্যাপারে বদগুমানি (কুধারণা) করেছেন। আমি এটাকে বদগুমানি মনে করি এবং আমি যা বলেছি, সেগুলোর পক্ষে আমার কাছে যত হাওয়ালা-উদ্ধৃতি এবং তথ্য আছে, সেগুলো সব আমি পাঠাব–

এ কথাগুলো মুছে দিয়েছেন, এগুলো বাদ দিয়ে শুরুর কথাগুলো রেখে দস্তখত করে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ব্যস! এটাই হল দ্বিতীয় রুজু নামা। এটা পাঠানোর তারিখ হল, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী। আর দস্তখত করেছেন ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরি। তারিখটা মনে রাখবেন। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরী।

দারুল উলূম দেওবন্দ এটা পাওয়ার পর বলল যে, ঠিক আছে। এখন যা বক্তব্য, তার ওপর তো আর আপত্তি নেই। এজন্য এটা দারুল উলূম গ্রহণ করেছে এবং একটা পরচা পাঠিয়েছে যে, আপনার এটা আমরা পেয়েছি। এটা রুজুনামা হিসেবে দারুল উলূম দেওবন্দের আলেমগণ এবং মুফতীগণ গ্রহণ করছেন। আমরা বিস্তারিত লেখা পরে পাঠাব।

দুদিন পর অর্থাৎ ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হিজরীতে বিস্তারিত লিখে পাঠানো হয়েছিল নিজামুদ্দীনে। পাঠানোর পরে এখনো বার্তাবাহক নিযামুদ্দীনে পৌঁছায়নি এমনসময় তাঁদের কাছে তথ্য এসে গেছে যে, আজকে সকালে ফজরের পর অর্থাৎ ১৩ রবিউল আউয়াল আবার তিনি হযরত মূসা আ.-এর ব্যাপারে সে কথাগুলোই বলেছেন। অতিরিক্ত আরো হযরত ইউসুফ আ.-এর ব্যাপারে নতুন করে আরো কথা। সেটাও কিন্তু নতুন নয়। কারণ আগেও আরো বলেছেন।

হায়! এটা কী হল!? মাত্র দুদিন আগে উনি রুজু করেছেন। দুদিন পরেই আবার ফজরের পরে বয়ানের মধ্যে ঘুরেফিরে সেই কথাগুলোই বলছেন। দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম মুফতী আবুল কাসেম নোমানী ছাহেব যাদেরকে পাঠিয়েছেন, তাদেরকে ফোন করে ফেরত আসতে বললেন।

দুদিন আগে রুজু করলেন, কিন্তু আবার ঘুরেফিরে সে কথাই বলছেন, তাহলে এটা কি রুজু হল? দৃশ্যত দুটি রুজু হল। রুজুনামা এক, রুজুনামা দুই। কিন্তু আসলে রুজু হল না। রুজুর মতো রুজু হলে এক রুজুতেই কাজ হয়ে যায়। আর নামের রুজু হলে দশবার রুজুর পরও কাজ হয় না।

যাইহোক, রুজুর মাত্র দুদিন পর অর্থাৎ ১৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮ হি. ১৩ ডিসেম্বর ২০১৬ তারিখে নিজামুদ্দীনে বসে তিনি যেটা বলেছেন–

دعوت کا چھوٹ جانا یہ امت کی گمراہی کا یقینی سبب ہے، دعوت کا چھوٹ جانا یہ امت کی گمراہی کا یقینی سبب ہے، دعوت کا چھوٹ جانا یہ امت کی گمراہی کا یقینی سبب ہے، علماء نے لکھا ہے کہ دعوت الی اللہ کا چھوٹ جانا گمراہی کا سبب ہے بلکہ یہاں تک لکھا ہے مفسرین نے کہ موسی علیہ السلام نےاپنی قوم کو پیچھے چھوڑ کر اللہ کی رضا اور اس کو خوش کرنے کے لئے تنہا عبادت میں مشغول ہوگئے اور قوم پیچھے رہ گئیی، اللہ نے پوچھا کہ { وَمَا أَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ يَامُوسَى} [طه: ৮৩] اے موسی علیہ السلام تمہیں جلدی میں کس نے ڈال دیا؟ موسی علیہ السلام نےعرض کیا کہ وہ لوگ پیچھے رہ گئے۔ میں آپ کو راضی کرنے کےلئے آگے بڑھ گيا۔

دھيان سے سننا بات کو، اللہ نے فرمايا کہ اے موسی علیہ السلام! ہم نے تمہارے پیچھےتمہاری قوم کو فتنہ اور آزمائش ميں ڈال ديا، علماء نے لکھا ہے کہ وجہ يہ ہوئی کہ موسی علیہ السلام بجاۓ قوم کو ساتھ لےکر آنے کے قوم کو چھوڑ کرآگئے، ৪০ رات موسی علیہ السلام نے عبادت ميں گزاری، اللہ کی شان کہ چھ لاکھ بنی اسرائیل جو سب کے سب ہدایت پرتھے، ان ميںسے৫ لاکھ ৮৮ ہزار ৪০ رات کی چھوٹی سی مدت ميں گمراہ ہوگئے ۔ صرف ৪০ رات موسی علیہ السلام نے دعوت الی اللہ کا کام نہيں کيا، ميں یہ سمجھ کر کہرہاہوں کہ صرف ৪০ رات موسی علیہ السلام نے دعوت کا عمل نہيں کيا، ৪০رات موسی علیہ السلام عبادت ميں مشغول رہے ،اور اس ৪০ رات کے عرصہ ميں ৫ لاکھ ৮৮ ہزار بنی اسرائیل سب کے سب بچھڑے کی عبادت پر جمع ہوگئے۔

যারা উর্দূ বুঝেন তারা তো বুঝেই গেছেন যে, কী মারাত্মক কথা। কিভাবে মহান এই নবীর উপর আক্রমণ করা হল, তিনি নাকি নিজ ইচ্ছায় (নির্জনে মাওলার ইবাদাতের শওক পূরা করার জন্য) দাওয়াত ছেড়ে দিয়েছেন। এবং কিভাবে নবীর উপর বনী ইসরাঈলের শিরকে লিপ্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে চাপিয়ে দিলেন!! প্রেক্ষাপট হল, হযরত মূসা আলাইহিস সালামকে আল্লাহ তাআলা তূর পাহাড়ে আসতে বলেছেন। তাঁর উম্মত অর্থাৎ বনী ইসরাইলের কিছু লোককেও সাথে নিয়ে আসতে বলেছেন। হুকুম হল, তূর পাহাড়ে চল্লিশ রাত থাকতে হবে।

হযরত মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহ তাআলার হুকুম মোতাবেক কিছু লোককে নিয়ে তূর পাহাড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। রওয়ানা হওয়ার সময় হযরত হারূন আলাইহিস সালামকে বললেন–

اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ.

আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, সবকিছু ঠিকঠাক রাখবে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করবে না। –সূরা আরাফ (৭) : ১৪২

নির্বাচিত কিছু লোককে নিয়ে যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তূর পাহাড়ের উদ্দেশে রওয়ানা হলেন, কাছাকাছি পৌঁছার পর মহব্বত ও আগ্রহের আতিশয্যে তিনি সবাইকে পেছনে ফেলে সামনে চলে গেলেন। এভাবে মীকাত বা নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে গেলেন। আল্লাহ তাআলা তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন–

وَمَا أَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ يَامُوسَى، قَالَ هُمْ أُولَاءِ عَلَى أَثَرِي وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى.

এবং (মূসা যখন সঙ্গের লোকজনের আগেই তূর পাহাড়ে চলে আসলেন, তখন আল্লাহ তাকে বললেন,) হে মূসা! তুমি তাড়াহুড়া করে তোমার সম্প্রদায়ের আগে আগে কেন আসলে? তিনি বললেন, ওই যে তারা আমার পেছনেই আসছে। হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার কাছে তাড়াতাড়ি এসেছি এজন্য, যাতে আপনি খুশি হন। –সূরা ত্বহা (২০) : ৮৩-৮৪

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. এই আয়াতের তাফসীরে বলেন–

كَانَ اللهُ عَالِمًا وَلَكِنْ قَالَ: وَما أَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ ، رَحْمَةً لِمُوسَى، وَإِكْرَامًا لَهُ بِهَذَا الْقَوْلِ، وَتَسْكِينًا لِقَلْبِهِ، وَرِقّةً عَلَيْهِ، فَقَالَ مُجِيبًا لِرَبِّهِ: هُمْ أُولاءِ عَلى أَثَرِي.

(তাফসীরে কুরতুবী খ- : ১১ পৃষ্ঠা : ২৩৩, তাফসীরুল বাসীত, ইমাম ওয়াহিদী, খ- : ১৪ পৃষ্ঠা : ৪৮৭)

এই বক্তব্যের সারকথা হল, আল্লাহ তাআলার তো জানাই ছিল– কেন মূসা আলাইহিস সালাম সামনে এগিয়ে গেছেন, তারপরও ইকরাম ও মহব্বত প্রকাশ করে একথা জিজ্ঞেস করেছেন। তখন উত্তরে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম বললেন, হে আমার রব! তারা তো আমার পেছনে আসছেই। আমি একটু আগে এসে গেছি আপনার সন্তুষ্টি লাভের আশায়।

এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁকে বনী ইসরাঈলের হালাত শুনালেন, যাদেরকে তিনি হযরত হারূন আলাইহিস সালামের তত্ত্বাবধানে রেখে এসেছেন। শুনালেন যে, তারা এক পরীক্ষার মধ্যে পড়েছে এবং তাতে অকৃতকার্য হয়েছে। তারা হযরত হারূন আলাইহিস সালামের নসীহত শুনেনি; বরং সামিরীর চক্রান্তে তারা গোমরাহ হয়ে গেছে।

এই হল ঘটনার প্রেক্ষাপট। সূরা বাকারা, সূরা আরাফ ও সূরা ত¦হার মধ্যে এই ঘটনা উল্লেখিত হয়েছে। সূরা বাকারার ৫১ নম্বর আয়াত, সূরা ত্বহার ৮০ ও ৮৬ নম্বর আয়াত এবং সূরা আরাফের ১৪২ নম্বর আয়াত থেকে একথা স্পষ্ট হয় যে, হযরত মূসা আলাইহিস সালামের তূর পাহাড়ে যাওয়াটা ছিল আল্লাহর আদেশে। সূরা আরাফের ১৪৮-১৫৪ আয়াত থেকে একথাও স্পষ্ট হয় যে, তূর পাহাড়ের এই সফরেই তিনি ‘তাওরাত’ লাভ করেন।

সূরা আরাফের ১৪২ নম্বর আয়াতে ইরশাদ হয়েছে–

وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ .

মূসা তাঁর ভাই হারূনকে বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তুমি আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে আমার প্রতিনিধিত্ব করবে, সবকিছু ঠিকঠাক রাখবে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করবে না। –সূরা আরাফ (৭) : ১৪২

হযরত হারূন আলাইহিস সালামও নবী ছিলেন। এরপর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তাঁকে নিজের স্থলাভিষিক্তও বানিয়েছেন এবং বলেছেন–

أَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ .

তুমি তাদেরকে ইসলাহ করতে থাক। অনিষ্টকারীদের অনুসরণ করো না।

সূরা ত্বহার ৯১-৯৪ আয়াতে পরিষ্কার ভাষায় উল্লেখিত হয়েছে যে, হযরত হারূন আলাইহিস সালাম মূসা আলাইহিস সালামের নসীহত অনুযায়ী আমলও করেছিলেন। কিন্তু বনী ইসরাঈলের জাহালাত যে, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এই পরীক্ষায় কামিয়াব হয়নি। সামিরীর ধোঁকায় পড়ে বাছুরের পূজা করতে শুরু করেছে।

এই হল ঘটনার প্রেক্ষাপট। এই হল কুরআন-উল্লেখিত বিবরণ। কিন্তু মাওলানা সা‘দ সাহেব হাফিযাহুল্লাহু তাআলা বলেন, হযরত মূসা আলাইহিস সালাম কওমকে সঙ্গে নিয়ে আসার পরিবর্তে তাদেরকে রেখে চলে এসেছেন। এরপর এখানে তিনি ৪০ রাত ইবাদাতে কাটিয়েছেন…। শুধু চল্লিশ রাত হযরত মূসা আলাইহিস সালাম দাওয়াতের আমল করেননি, ইবাদাতে মগ্ন ছিলেন। আর এই চল্লিশ রাতের মধ্যেই পাঁচ লক্ষ ছিয়াশি হাজার বনী ইসরাঈলের সবাই বাছুরের পূজা করতে শুরু করেছে।

নাউযুবিল্লাহ। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

তো চিন্তা করে দেখুন, এটা কি শুধু মূসা আ.-এর ওপর আপত্তি হবে, না আল্লাহর হুকুমের ওপরেও আপত্তি হবে? আল্লাহর হুকুমের ওপর আপত্তি হবে। বলুন এটা কি মামুলী ভুল? নবীর শানে এটা বেয়াদবি কি না? তার বে-খেয়ালিতে হোক আর যেভাবেই হোক আল্লাহর হুকুমের ওপর হাত পড়ে কি পড়ে না? পড়ে। বলেছেন, বনী ইসরাঈল গোমরাহ হয়ে গেছে এ কারণে যে, মূসা আ. চল্লিশ রাত দাওয়াত ছেড়ে ইবাদতে লেগে গেছেন। পাঁচ লক্ষ ৮৮ হাজার বনী ইসরাঈল গোমরা হয়ে গেছে শুধু মূসা আ. দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণে। বলুন– নাউযুবিল্লাহ।

আপনি কি নামাযের সময় দাওয়াতের কাজ করেন? না। ফরয নামায বাদ দিয়ে দাওয়াতের কাজ করা কি জায়েয আছে? না। তো, মূসা আ.-এর প্রতি আল্লাহর হুকুম ছিলো ৪০ রাতের জন্য তূর পাহাড়ে যাওয়া; উনি আল্লাহর হুকুমে গিয়েছেন, আর এখন আপনি বলছেন যে, দাওয়াত ছেড়ে দিয়েছেন। আপনি যখন যোহরের চার রাকাত ফরয নামায পড়েন, তখন কি দাওয়াতের কাজ করেন? গাশতের আমল করেন? আসরের ফরযের সময় গাশত করেন, না আসরের পরে করেন? পরে। তো মূসা আ. তো ৪০ রাত আল্লাহর হুকুমে আল্লাহর কাছে গিয়েছেন। যেন সা‘দ সাহেবের আশা হল, ওই ফরয হুকুম না মেনে দাওয়াতের কাজ করতে হবে। মানে যোহরের নামায বাদ দিয়ে দাওয়াতের কাজ করতে হবে। ধরুন, দশ-বারো মিনিট সময় লাগবে চার রাকাত পড়তে। এতক্ষণ সময়ও আপনি দাওয়াতের কাজ বাদ দিবেন কেন? এ পাঁচ-দশ মিনিট আপনার দাওয়াতে একজন মানুষ নামাযী হয়ে গেলে তো ভালোই। বিষয়টা খেয়াল করেছেন কি না?

এগুলো কথা? মূসা আ. নাকি দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন! আরে মূসা আ. আল্লাহর হুকুম পালন করছেন, আর আপনি বলছেন যে, দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। আর বনী ইসরাঈল নাকি গোমরা হয়েছে– মূসা আ.-এর কারণে! নাউযুবিল্লাহ! নবীর ওপরে দোষ দিয়ে দিচ্ছে! অথচ আল্লাহ কুরআনে বলেছেন, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে বনী ইসরাঈলের জন্য পরীক্ষা। আর বাহ্যিক কারণ ছিল, সামেরী নামের লোকটি– وَ اَضَلَّهُمُ السَّامِرِیُّ আল্লাহ বলেছেন, সামেরী তাদেরকে গোমরাহ করেছে। আর মাওলানা সা‘দ সাহেব বলেন, মূসা আ. দাওয়াত ছেড়ে দেওয়ার কারণে তারা গোমরা হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

তার কথার ভাবে বোঝা যাচ্ছে উনি

وَ مَاۤ اَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ یٰمُوْسٰی.

এখানে যে قَوْمِ (কওম) সে কওম আর পরের আয়াত–

قَدْ فَتَنَّا قَوْمَكَ مِنْۢ بَعْدِكَ وَ اَضَلَّهُمُ السَّامِرِیُّ-এর قَوْم (কওম)কে এক মনে করছেন। উনার কথার দ্বারা এমনটা মনে হচ্ছে। অথচ সহীহ কওল হল, দুটো দুই জিনিস। وَ مَاۤ اَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ-এর মধ্যে কওম হল যাদেরকে মূসা আ. সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। তাদের কেউ গোমরাহ হয়েছে এমন কথা কোনো সহীহ রেওয়ায়েতে আছে? তারা তো মূসা আ.-এর সঙ্গেই আছেন। তারা একটু পিছে ছিলেন, মূসা আ. একটু এগিয়ে গেছেন। আল্লাহ খুশি হবেন এজন্য আগে আগে গেছেন। যে কওম বা যাদেরকে সামেরী গোমরা করেছে তারা হল যারা হারুন আ. এর তত্ত্বাবধানে ছিল। একই সূরার মধ্যে দু আয়াত পাশাপাশি। প্রথম আয়াতের কওম আর দ্বিতীয় আয়াতের কওম এক না। যারা গোমরা হয়েছে তারা হল ঐ বনী ইসরাঈলগণ, যারা হারূন আ.-এর তত্ত্বাবধানে ছিল। কিন্তু তাঁর কথা শোনেনি। হারূন আ. তাদেরকে হাজারো বুঝিয়েছেন, কিন্তু তারা তার বুঝ মানেনি। বরং সামেরীর কথা শুনেছে এবং গোমরা হয়ে গিয়েছে।

দেখুন এখানে একসাথে কতগুলো ভুল?

এক. মূসা আ.-এর ওপর আপত্তি উত্থাপন করা যে, তিনি দাওয়াতের কাজ ছেড়ে দিয়েছেন।

দুই. মূসা আলাইহিস সালামের উপর আপত্তি উত্থাপন করা যে, তাঁর দোষেই কওম গোমরাহ হয়েছে। নাউযু বিল্লাহ!

তিন. মূসা আলাইহিস সালাম তূর পাহাড়ে গিয়েছেন আল্লাহর হুকুমে। আর সা‘দ সাহেবের কথার দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, মূসা আলাইহিস সালাম নিজে নিজে গিয়েছেন একান্তে ইবাদতের জন্য। নাউযু বিল্লাহ!

আল্লাহ তাআলা বলছেন, সামেরীর কারণে কওম গোমরাহ হয়েছে। আর উনি দোষারোপ করছেন মূসা আলাইহিস সালামকে। আরো বলেছেন, আমি কিন্তু বুঝে-শুনে বলেছি! এগুলো কি ছোট ভুল?

এখন আপনি বলবেন, তিনি রুজু করেছেন। রুজুর হালাত তো আমি শুনিয়েছি। প্রথম রুজুর মধ্যে বলা হল, আমি আমার রেফারেন্স পাঠাব। এটার নাম কি রুজু? গোমরাহীর কথাগুলোর নাকি রেফারেন্স পাঠাবেন। যদি এ গোমরাহীর কথাগুলোর রেফারেন্স থাকেও সে রেফারেন্সকেও ভুল বলতে হবে? এসব তো গোমরাহীর কথা। এ গোমরাহীর কথা যদি কোথাও লেখাও থাকে, আর উনি সেখান থেকে উদ্ধৃতি দেন, সে উদ্ধৃতি কি গ্রহণযোগ্য?

হয়ত কিতাবটাই গ্রহণযোগ্য নয়। অথবা এ কিতাবের এ আলোচনাটা নির্ভরযোগ্য নয়। এগুলো আলেমরা বুঝবেন। রেফারেন্স দিচ্ছেন আপনি! গোমরাহীর কথার আবার রেফারেন্স হয় নাকি? রেফারেন্স দিলে সেটা ভুল রেফারেন্স। গোমরাহী কথার কি সহীহ রেফারেন্স সম্ভব?

দ্বিতীয় রুজুতে রেফারেন্স পাঠানোর কথা বলেননি। সরাসরি রুজু। কিন্তু রুজুর দু’দিন পরেই এক্কেবারে নিযামুদ্দীনের মিম্বারে বসে আবার এ কথাগুলো বলা হল। তাহলে রুজুর ওপরে কী আঘাতটাই না উনি করলেন! এটা কি রুজু?

এ দ্বিতীয় রুজুর পর এ কথাগুলোর আগে যখন দেওবন্দ বলল, আপনার রুজুর ওপর আমাদের আস্থা হয়েছে যে, আপনি রুজু করেছেন। আল্লাহর শোকর, আলহামদু লিল্লাহ! বড়রা এমনই করেন। ভুল হয়ে গেলে তারা রুজু করেন। এসব বলে তার প্রশংসা করল এবং নতুন মাওকিফ লিখে পাঠিয়ে দিল, কিন্তু সেদিন ফজরের পরে এসমস্ত কথা বলার কারণে দারুল উলূম দেওবন্দ সে লেখা ফেরত নিয়ে এসেছে।

মাওলানা সাদ সাহেব চাচ্ছেন, দারুল উলূম দেওবন্দ তাঁর ব্যাপারে তাদের মাওকিফ পরিবর্তন করুক। কিন্তু এজন্য তো এই মারাত্মক ভুলগুলোর ইসলাহ জরুরি। উনি চাচ্ছেন যে, ইসলাহ ছাড়াই তারা তাদের মাওকিফ পরিবর্তন করে নিক। এটা কি সম্ভব? সম্ভব না।

এখন করলেন কী? এক মাস পর আবার একটা রুজু নামা পাঠালেন। এটা হল তিন নাম্বার রুজু নামা। সেটার মধ্যে তিনি অন্যান্য কিছু বিষয়ে নিঃশর্ত রুজুর কথা বলেছেন, কিন্তু মূসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে লিখেছেন, আমি যা বলেছি, সেটা তো অমুকের কথা থেকে বুঝে আসে। অমুক জায়গা থেকে বুঝে আসে।

হায়রে! অথচ উনার ব্যাপারে যেসমস্ত আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে সবচে ভয়াবহ এবং সবচে জঘন্য আপত্তি এটা, অথচ এটার মধ্যেই তিনি সিনাজুরি করছেন। নাউযু বিল্লাহ! এটার মধ্যেই যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন। সবার আগে এখানে নিঃশর্ত রুজু করার দরকার ছিল। কিন্তু এখানে এসে তিনি নিজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান।

তিনি বলেন, আমার কথারও যুক্তি আছে, রেফারেন্স আছে, আমার কথাটা বাতিল না; বরং মারজুহ! তুলনামূলক দুর্বল কথা হিসাবে ধরা যেতে পারে, বাতিল না। আমার কথা বাতিল না হলেও আমি এটা থেকে ফেরত আসলাম। তবে আমার কথারও যুক্তি আছে। ওটার পক্ষেও রেফারেন্স আছে। এটাকে বাতিল বলা যায় না। সর্বোচ্চ মারজুহ বলতে পারেন। মানে তুলনামূলক দ্বিতীয় পর্যায়ের কথা। নাউযু বিল্লাহ!

তাহলে বলুন এটা কি রুজু হল? কিছু জিনিসের তো নিঃশর্ত রুজু করেছেন আর কিছুর পক্ষে যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন। তখন দারুল উলূম দেওবন্দ এ যুক্তিগুলোর খ-ন করেছে এবং লিখে পাঠিয়েছে যে, আপনার এসব যুক্তি অহেতুক। আপনার কথাগুলো মারজূহ নয়; বরং বাতিল। এবং এ বাতিল কথাগুলোর পক্ষে আপনি যে রেফারেন্স দাঁড় করিয়েছেন রেফারেন্সগুলো থেকে আপনার কথা সাব্যস্ত হয় না। এসব দ্বারা আপনার বাতিল কথা প্রমাণ হয় না। কাজেই আপনি মূসা আ.-এর ব্যাপারে যা বলেছেন তা থেকে নিঃশর্ত রুজু করুন! এবং ঘরে বসে নয়, কাগজে রুজু নয়, বরং বলেছেন যেহেতু লাখো মানুষের সামনে, ওভাবেই জনতার সামনে আপনি আপনার ভুল থেকে নিঃশর্ত রুজু করুন! এ বলে দারুল উলূম চিঠি পাঠিয়েছে।

এরপর তার চতুর্থ রুজু নামা এসেছে। চতুর্থ রুজু নামার মধ্যে তিনি বলেছেন যে, আচ্ছা, ঠিক আছে, মূসা আ.-এর এ ঘটনার ব্যাপারেও আমি নিঃশর্ত রুজু করলাম। চিঠি লিখে পাঠিয়েছেন। দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম সাহেব এ চিঠি গ্রহণ করেননি। বলেছেন যে, আমাদের কাছে কাগুজে রুজু করলে কী হবে? এ রুজু নামা আমাদের দরকার নেই। বলেছেন উনি লাখ মানুষের সামনে, উনি সেভাবেই রুজু করুন। দারুল উলূম দেওবন্দের মুহতামিম সাহেব কাজটা ঠিক করেছেন না বে-ঠিক করেছেন? ঠিক করেছেন। এখন আশা করি বুঝতে পেরেছেন। সা‘দ সাহেবের রুজুর হাকীকত।

হযরত মূসা আ.-এর ব্যাপারে মাওলানা সা‘দ সাহেব যা বলেছেন এবিষয়ে একথাও জানা থাকা ভালো যে, উনি যখন এধরনের আপত্তিকর মন্তব্য আরো কঠিন ভাষায় হাতুরাবান্ডার ইজতিমায় ১৪৩৪ হিজরীতে বলেছিলেন তখনই হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ যায়েদ মাযাহেরী দামাত বারাকাতুহুম বিস্তারিত এক চিঠির মাধ্যমে সতর্ক করেন। আফসোস! তিনি ঐ দলীলসমৃদ্ধ নসীহতমূলক চিঠির কোনো গুরুত্ব দেননি। এতে আন্দায করা যায় এই বিষয়ে সা‘দ সাহেবের বাড়াবাড়ি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে!

হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে সা‘দ সাহেবের মন্তব্য

১৩ রবীউল আওয়ালের সে তারিখেই ইউসুফ আ.-এর ব্যাপারেও বলেছেন–

یوسف علیہ السلام بڑ ے سخت حالات میں تھے، تہمت لگی تھی عزیز مصر کے گھر سے، اور بہت سخت حالات تھے، لیکن دو چيزيں اللہ دیکھنا چاہتے ہيں داعی سے، ایک تو یہ دیکھنا چاہہتے ہیں کہ حالات سے متاثر ہو کر دعوت الی اللہ چھوڑ تو نہيں ديتا، ایک یہ دیکھتے ہيں اللہ انبیاء علیہم السلام کو کہ یہ حالات سے پریشان ہوکر ہمارے غیرسےمدد تو نہیں چاہتے؟ دوسرے یہ دیکھنا چاہتے ہیں کہ حالات سے متاثرہو کر دعوت الی اللہ کاعمل چھوڑتو نہیں دیتے۔

دوسری بات یہ ہے کہ پھر یوسف علیہ السلام نے ان کو ان کے خواب کی تعبیر بھی بتلادی اور یہ خیال ہوا کہ ان میں سے ایک آدمی جیل سے رہا ہوکر اور باعزت بری ہوکر بادشاہ کے پاس جاۓگا، لہذا بادشاہ کے پاس یہ پیغام پہونچا دوں۔ سنو دھیان سے کہ یوسف علیہ السلام نے اتنے عرصہ سے جیل میں ہے کچھ اس کے مقدمہ پر غور کرلیاجاۓ اور اس کو جیل سے رہا کر دیا جاۓ، اللہ کی شان یوسف علیہ السلام کو شیطان نے اللہ کی یاد بھلادی، یوسف علیہ السلام کو شیطان نے اللہ کی یاد بھلادی، یوسف علیہ السلام کو شیطان نے اللہ کی یاد بھلادی کہ یوسف علیہ السلام نے جیل سے نکلنے کے لئے ہم سے کیوں نہیں کہا؟

داعی کےلئے یہ دو چیزیں انتہائی ضروری ہیں، انتہائی ضروری کہ جب اس کے راستہ میں کوئی حال آۓ تو وہ اپنےحال کو اس سے کہے جس کی طرف سے پیغام لے کر بھیجا ہواہے، دنیا میں آپ کسی ادنی سے ادنی ملازم کو کسی ادنی سے ادنی کام کے لئے بھیجیں اگر اس کے کام میں کوئی رکاوٹ پیش آۓ گی یا اسے کو‎ئی دقت پیش آ‎‎ۓگی تو وہ رجوع کرےگا اور رابطہ کرےگا بھیجنے والے سے، جس نے کام کے لئے بھیجا ہے اس سے ہی رابطہ کرےگا کہ آپ بتائیے کہ میں کیا کروں؟ میرے کام میں رکاوٹ پیش آگئیی میں کیا کروں؟ یوسف علیہ السلام نےرہا ہو نے والے سے فرمایا: اذْكُرْنِي عِنْدَ رَبِّكَ کہ میرا تذکرہ کردینابادشاہ کے سامنے ، فَأَنْسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ، شیطان نے یوسف علیہ السلام کو یوسف علیہ السلام کے رب کی یاد بھلادی، اس کے بعد یوسف علیہ السلام عرصہ جیل میں رہے.۔

দেখুন কীভাবে হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে মাওলানা সাদ সাহেব বললেন, তিনি আল্লাহর দিকে রুজু না করে গাইরুল্লাহর কাছে মদদ চেয়েছেন! নাউযুবিল্লাহ! আরো বলেছেন, শয়তান হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামকে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে!

আপনারা জানেন, ইউসুফ আলাইহিস সালাম জেলখানায় ছিলেন অনেক বছর। তাঁকে অন্যায়ভাবে এবং যুলুম করে জেলে দেওয়া হয়েছে। কুরআনে সূরা ইউসুফের মধ্যে কিছু ঘটনা এসেছে। একটা ঘটনা হল, যারা সূরা ইউসুফের অনুবাদ-তাফসীর পড়েছেন, তারা জানেন, তাঁকে দু’জন স্বপ্নের তাবীর জিজ্ঞেস করেছিল। তিনি তাবীর বলে দিয়েছেন; একজনের ব্যাপারে বলেছেন, সে মুক্তি পাবে। আরেকজনের ব্যাপারে বলেছেন, মুক্তি পাবে না। আল্লাহর হুকুমে ঘটনা ওরকমই ঘটেছে। যার ব্যাপারে বলেছেন যে, মুক্তি পাবে না, সে মুক্তি পায়নি। আর যার ব্যাপারে বলেছেন যে, মুক্তি পাবে, সে মুক্তি পেয়ে গেছে। যে মুক্তি পেয়েছিল, তাকে ইউসুফ আ. বলেছেন যে, তুমি তোমার বাদশার কাছে আমার বিষয়ে আলোচনা করবে। আমার বিষয়ে কী আলোচনা করবে, তা কিন্তু কুরআনে বলা হয়নি। উনি তো জেলখানায়ও তাওহীদের দাওয়াত দিয়েছেন। তাহলে হতে পারে এ তাওহীদের আলোচনা করার কথা বলেছেন। আর এটাও হতে পারে যে, একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে যুলুম করে জেলে রেখে দেওয়া হয়েছে, আপনি একটু বিষয়টা দেখুন! এটা বলতে বলেছেন। কুরআনে কিন্তু বিশ্লেষণ নেই যে, কী বলতে বলেছেন? শুধু বলা হয়েছে, তুমি তোমার বাদশার কাছে আমার কথা বলবে। এরপর কুরআনে আছে–

فَاَنْسٰىهُ الشَّیْطٰنُ ذِكْرَ رَبِّهٖ

লোকটা মুক্তি পাওয়ার পর বাদশার কাছে সেকথা বলতে ভুলে গেছে। ইউসুফ আ.-এর কথা আলোচনা করেনি। করা হয়নি। ইউসুফ আ. জেলে আছেন তো আছেনই। بِضْعَ سِنِیْنَ আরো সাত কিংবা এর চেয়েও বেশি সময় জেলে ছিলেন।

এই যে কুরআনের শব্দ–

فَاَنْسٰىهُ الشَّیْطٰنُ ذِكْرَ رَبِّهٖ

এর অর্থ যা পূর্বাপর থেকেও নির্ধারিত এবং শানে রিসালাতেরও যা দাবি তা হল, যে লোকটা জেলখানা থেকে মুক্তি পেয়েছে, তার বাদশা, তার অভিভাবকের কাছে গিয়ে ইউসুফ আ.-এর কথা স্মরণ করতে শয়তান তাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। এ হল আয়াতের সহীহ অর্থ।

কিন্তু মাওলানা সা‘দ সাহেব এ আয়াতের অর্থ কী করেছেন? শয়তান ইউসুফ আ.-কে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে! বলুন– নাউযুবিল্লাহ! শয়তান নাকি ইউসুফ আ.-কে আল্লাহর স্মরণ ভুলিয়ে দিয়েছে। ইউসুফ আ.-এর আল্লাহকে স্মরণ করতে মনে নেই। ওই যে গাইরুল্লাহর কাছে কেন মদদ চাইল, এ কারণে আরো কয়েক বছর জেলে থাকতে হয়েছে।

তা‘বীর বলার পূর্বে তাদেরকে তাওহীদের দাওয়াতও দিয়েছেন। শিরক থেকে বেঁচে থাকার দাওয়াত দিয়েছেন। এটা কি আল্লাহর স্মরণ নয়?

ইউসুফ আ. কি আসলে গাইরুল্লাহর কাছে মদদ চেয়েছেন? তিনি কি গাইরুল্লাহর কাছে মদদ চাওয়ার মত মানুষ? কেউ যদি কাউকে বলে যে, ভাই! তুমি তোমার বাদশার কাছে গিয়ে বলে দাও যে, একজনকে জেলখানায় যুলুম করে রেখে দেওয়া হয়েছে। এটা কি গাইরুল্লাহর কাছে মদদ চাওয়া হল? এটাকে কি গাইরুল্লাহর কাছে মদদ চাওয়া বলে? এটা তো হল জায়েয উপকরণের জায়েয ব্যবহার। এটা কেউ করলে কাজটা কি জায়েয হবে, নাকি নাজায়েয হবে? নবীদের কাছ থেকে তো আমাদের শরীয়তই শিখতে হবে। নাকি? কোনটা জায়েয আর কোনটা নাজায়েয তা নবীরাই তো দেখাবেন! একজন জেলে পড়ে আছে, কাউকে দেখে বলল যে, তুমি গিয়ে বল, এ লোককে যুলুম করে রাখা হয়েছে। অন্যায়ভাবে রাখা হয়েছে। আপনারা বিষয়টি যাচাই করুন! এভাবে কেউ যদি কাউকে বলতে বলে, জায়েয হবে কি না? অবশ্যই জায়েয হবে। কোনো দায়ীর জন্য এটা জায়েয কি না? জায়েয। কোনো মুবাল্লিগের জন্য এটা জায়েয কি না? জায়েয! কোনো আলেমের জন্য জায়েয কি না? জায়েয। কোনো নবীর জন্য এ কাজটা জায়েয কি না? জায়েয!

এটা যে জায়েয, সেটাও তো আমরা নবীদের কাছ থেকে পেয়েছি। নবীদের সীরাত থেকে শিখতে হবে যে, কোনটা জায়েয আর কোনটা নাজায়েয। কিন্তু উনি করেন উল্টো। উল্টো নবীদের ওপর আপত্তি করেন। নবী নাকি গাইরুল্লাহর কাছে মদদ চেয়েছেন, এজন্যই জেলে আরো দীর্ঘ সময় থাকতে হল, নাউযু বিল্লাহ!

এখন তার লোকেরা যদি বলে, আমাদের কাছে রেফারেন্স আছে। তাহলে বিষয়টা কেমন হবে বলুন, একথার যদি রেফারেন্স থাকেও, সেটা কি গ্রহণ করা যাবে? এটা গোমরাহীর কথা না? গোমরাহীর কথা কোথাও থাকলে বলতে হবে যে, এটা গোমরাহী! খবরদার! এ কথা নিয়ো না।

গোমরাহীর কথার রেফারেন্স দিলে তোমরা কোত্থেকে দিবে সেটা আলেমরা ভালোভাবেই বুঝেন। হয়তো কোনো মুনকার রেওয়ায়েতের দ্বারস্থ হবে বা পূর্বের কোনো আলেমের পদস্খলনমূলক কোনো কথা নিয়ে আসবে। না হয় কারো বক্তব্যের পূর্বাপর বাদ দিয়ে বুঝে না বুঝে তার মর্ম বিকৃত করে উপস্থাপন করবে। কোনো ভ্রান্তির পক্ষপাতের এই তো রাস্তা!

তাহলে আপনারা কি মনে করেন যে, ভুলগুলো হালকা? এমনে বয়ান করছেন ভালো। বয়ান করছেন দাওয়াতের গুরুত্বের উপরে। বলতে বলতে একপর্যায়ে গিয়ে বাড়াবাড়ি শুরু করে দেন। বাড়াবাড়ি যখন শুরু করেন, তো বাড়াবাড়িমূলক কথাগুলোর জন্য তো আর সঠিক কোনো রেফারেন্স পাওয়া যায় না; সেজন্য এই বাড়াবাড়িমূলক কথাগুলোর জন্য-ই তিনি নবীদের সীরাত থেকে ঘটনার বিকৃতি, নবীদের দোষ ধরার মত জঘন্যতম বিষয় নিয়ে চলে আসেন। কথা বুঝতে পেরেছেন তো?

সামনে চলার আগে এখানে একথাও জেনে রাখা ভালো যে, মাওলানা সা‘দ সাহেব হাফিযাহুল্লাহ হযরত মূসা আলাইহিস সালামের বিষয়ে যা বলেছেন তা থেকে রুজু করেছেন। যে ধরনের রুজুই হোক না কেন, কিন্তু হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ব্যাপারে যা বলেছেন তা থেকে আমাদের জানামতে রুজু করেননি।

এ হল একটা দিক। এতক্ষণে আমি মাত্র তার একটা ভুল নিয়ে কথা বললাম। সময় তো নেই। আপনারা যেহেতু বলেছেন, এজন্য আটটা পর্যন্ত আলোচনা চলুক। তারপরেও আমার অনুরোধ থাকবে যে, কারো যদি কোনো কষ্ট হয়, সাথে সাথে দাঁড়িয়ে বলবেন যে, হুজুর! আজকে থাকুক! আজকে আর দরকার নেই। এশার নামায হয়ে যাক। ইনশাআল্লাহ, আমি সঙ্গে সঙ্গে কথা শেষ করে দিব। কারো অসুবিধা হলে বলবেন যে, আজ আর কথা লম্বা না হলে ভালো হয়। না হয় আমার জামাতে নামায পড়ার সুযোগ হবে না। যে কেউ বলবেন বা একটা কাগজে লিখে পাঠাবেন আমি ইনশাআল্লাহ কথা বন্ধ করে দিব।

স্বয়ং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারে মন্তব্য

আওরঙ্গবাদের ইজতেমায় তিনি ওলিমার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেই প্রসঙ্গে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাতের একটি ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়েও আপত্তিকর উপস্থাপন করেছেন। অনেক অন্যায় উপস্থাপন হয়েছে। মৌলিকভাবে তার কথার প্রেক্ষাপট এবং প্রসঙ্গটা খারাপ ছিল না। কিন্তু কথার মধ্যে বাড়াবাড়ি ছিল। একটা কথা মনে রাখবেন, ‘বাড়াবাড়ি’ আর ‘ছাড়াছাড়ি’ এ দুটোর কোনোটারই ইসলামে কোনো স্থান নেই। তো বলছিলাম, প্রেক্ষাপট যদিও ভালো ছিল, কিন্তু একপর্যায়ে বাড়াবাড়িতে চলে গেছেন। আর এ বাড়াবাড়ি করতে গিয়েই আবার পদস্খলন হয়েছে। উনি বলেছেন যে, বিয়ের মধ্যে অপচয় করতে নেই।

কথা কি ঠিক, না বেঠিক? ঠিক! খুব ভালো কথা যে, অপচয় করবেন না। অপচয়েরও তো বিভিন্ন স্তর আছে। আবার সব খরচকেই কিন্তু অপচয় নাম দেওয়া যায় না।

তো ওলিমার প্রসঙ্গে তিনি বললেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো ওলিমাতে শুধু পনির খাওয়াতেন। কখনো শুধু খেজুর বা খোরমা। তার দাবি অনুযায়ী। গোস্ত-রুটির ওলিমা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো করেননি; বরং তাঁর মা‘মুলই ছিল, খেজুর-পনির জাতীয় জিনিস দ্বারা ওলিমা করা। একবার শুধু ব্যতিক্রম হয়েছিল। একবার শুধু গোশত রুটির ওলিমা করেছেন। মাওলানা সা‘দ সাহেব বলেছেন–

‎شادیوں میں اسراف سے بچو، جتنا اسراف زیادہ ہوگا اتنی اذیت زیادہ ہوگی۔ حضور اکرم صلی اللہ علیہ وسلم نے تمام شادیوں میں کہیں پنیر کھلایا، کہیں کھجوریں تقسیم کردیں،کہیں چھوارے بکھیر ديئے۔ فرمایا کھا‎‎‎ؤ تمہاری ماں کا ولیمہ ہے۔ آج اگر کوئی چھوارے کھلادے ولیمہ ميں توکوئی ولیمہ نہ مانےگا، کوئی اس کو ولیمہ نہیں ما نےگا، حالا نکہ یہ عین سنت ہے، آپ کی ایک شادی نہیں ساری شاد یاں ایسی ہی ہوئی ہیں، سوائے حضرت زینب رض کے کہ اس میں آپ نے گوشت روٹی کا انتظام کیا، حضرت زینب رض اس پر فخر کر تی تھی کہ میر ے نکاح میں گوشت روٹی کا انتظام ہواہے، اللہ کی شان کہ آپ کی جوشادی آپ کے معمول سے ہٹی اسی شادی میں آپ کوا ذیت ہوئی، عجیب بات ہے جو شادی آپ کی آپ کے معمول سے ہٹی اسی میں آپ کوا ذیت ہوئی، سو چنےکی بات ہے ہم غور کر یں کہ اگر محمد صلی اللہ علیہ وسلم کو گو شت روٹی کے انتظام کی وجہ سے آکر بیٹھنے والوں کے انتظار سے اذیت ہوئی، اس سے اندازہ کرلو کہ ہم آپ کی گوشت روٹی کی سنت سے کتنے آگے بڑھ گئے ہیں۔ اب اذیتوں کی قرضوں کی پریشانیوں کی سود کی اور قرضوں میں دب جانے کی کتنی قسم کی اذیتیں آگئیں ۔ اگر محمد صلی اللہ علیہ وسلم کو گوشت روٹی کی وجہ سے اذیت ہو سکتی ہے، تو ہم آپ کے اس طریقۂ سنت سے کتنے دور گئے؟!

মাওলানা সা‘দ সাহেব বলেন, শুধু যয়নাব রাদিয়াল্লাহু আনহার বিয়েতে গোস্ত-রুটির আয়োজন হয়েছে। উনি বলেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মা‘মুল থেকে দূরে সরে গেছেন। বলেন যে, শুধু এক বিয়ের মধ্যে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মা‘মুল থেকে সরে গেছেন। মা‘মুল অর্থ এতদিন যেভাবে আমল করে আসছেন সেটাকে বলে মা‘মুল। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেভাবে যে আমল করেন সেটাকেই সুন্নত বলে। তাহলে এর অর্থ দাঁড়াল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম এক বিয়েতে গোস্ত-রুটি দিয়ে ওলিমা করে নিজের সুন্নত থেকে দূরে সরলেন। নাউযু বিল্লাহ। আর ওই বিয়েতেই তিনি কষ্ট পেয়েছেন।

اللہ کی شان کہ آپ کے جو شادی آپ کے معمول سے ہٹی اسی شادی میں آپ کو اذیت ہوئی.

মামুল থেকে সরে যাওয়ার কারণে কষ্ট পেয়েছেন। নিজের সুন্নতের বিপরীত করার কারণে কষ্ট পেয়েছেন– এ কথাটা আপত্তিকর কি না? এ উপস্থাপনটা আপত্তিকর কি না?

দেখুন, তার এ বক্তব্যের মধ্যে অনেক কথাই ভুল।

একটা হল রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য এক ওলিমাতেও গোশতের আয়োজন করেছেন। [উমদাতুল কারী শরহুল বুখারী, খ- ২০, পৃ ১৫৫; ফতহুল বারী ৯/১৪৬, ৫১৭১ নম্বর হাদীসের অধীনে] অথচ তিনি বলছেন যে, শুধু যয়নাব রা.-এর বিয়েতেই গোস্ত-রুটির ওলিমা হয়েছে। অন্য কোনো বিয়েতে হয়নি। এটা আপত্তিকর।

দ্বিতীয় কথা হল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিয়েতে শুধু পনির দিয়ে ওলিমা করেছেন। এটার প্রমাণ চাই। তৃতীয় কথা হল, হাদীসে কি أَوْلِمْ، وَلَوْ بِشَاةٍ -এর কথা নেই? ‘কমপক্ষে একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওলিমা কর’।

মাওলানা সা‘দ সাহেব বলেছেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মা‘মুলের পরিপন্থী কাজ করার কারণে যদি কষ্টে পড়ে থাকেন তাহলে আমরা এখন গোস্ত-রুটির সুন্নত ছেড়ে আরো কত দূরে চলে গেছি! আমরা কত অপচয় করছি, তাহলে আমাদের কী দশা হবে? কথার আবেদনটা ভালো যে, আমরা যে এত অপচয় করি সেটা থেকে ফিরে আসার জন্য আমাদের বলেছেন। তা ঠিক, কিন্তু বলতে গিয়ে রাসূলুল্লাহর শানে যে ভঙ্গিতে বলেছেন এ ভঙ্গিটা কি ঠিক হয়েছে? এ থেকে রাসূলুল্লাহর ওপর আপত্তি আসে কি না যে, রাসূলুল্লাহ নিজের সুন্নতের খেলাফ করলেন?

একটু পরে গিয়ে আবার নিজেই বলছেন যে, গোস্ত-রুটিটাও সুন্নত। সামনের কথার মধ্যে আছে, গোস্ত-রুটির সুন্নত থেকে আমরা অনেক দূরে চলে গেছি। আহা, গোস্ত-রুটি যদি সুন্নত হয় তাহলে আগেরটাও রাসূলুল্লাহর সুন্নত, পরেরটাও সুন্নত। তাহলে রাসূলুল্লাহ কি সুন্নত পরিপন্থী কিছু করেছেন? না। আর তিনি যয়নাব রা.-এর বিয়েতে গোস্ত-রুটির ওলিমা করে যে কাজ করলেন, সেটাও যদি সুন্নত হয়ে থাকে এবং বাস্তবেও তা সুন্নত। তাহলে এ কারণে কি তাঁর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকলীফ আসতে পারে? সুন্নত অনুযায়ী আমল আবার তাকলীফের কারণ হবে কেন?

একটু ভেবে দেখুন, আমরা যাঁর সুন্নত অনুসরণে আদিষ্ট তার ব্যাপারে মন্তব্য করা হচ্ছে, তিনি তাঁর মা‘মুল থেকে সরার কারণে তাকলীফের শিকার হয়েছেন। তাকলীফ তো আসে আল্লাহর হুকুমে। তার কত কারণই হতে পারে। কোথায় কী কারণ তা তো আল্লাহই ভালো জানেন। এ কেমন উম্মতী, যে নবীর উপর আসা তাকলীফের এমন ব্যাখ্যা দেয় যে, নবী যেন কোনো ভুল করেছেন তাই তাকলীফ এসেছে!!

মাওলানা সা‘দ সাহেব কোন দলীলে একথা বললেন যে, এই তাকলীফটা গোশত রুটির ওলিমার কারণে হয়েছে?! সাফিয়া রা.-এর বিয়ের সময়ে তো গোশত রুটির ওলিমা হয়নি। অথচ সেখানে আরো বেশি তাকলীফ হয়েছিল।

মোটকথা, এখানেও তার এই মেযাজটাই কাজ করছে যে, নবীদের সীরাত আলোচনার সময়ও নিজের ‘বুঝ’ অনুযায়ী তাতে মন্তব্য করা যায়। এই মেযাজ সংশোধনযোগ্য। সীরাত আলোচনা করতে হবে হেদায়েত নেওয়ার জন্য। আদর্শ গ্রহণ করার জন্য। ত্রুটি চিহ্নিত করার জন্য নয়। কোনোকিছু বুঝে না আসলে ফুকাহায়ে কেরামের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

এখানে এ বিষয়টিও লক্ষ্য করার মত যে, যদি গোশতের ওলিমা তাকলীফ আসারই কারণ হয়ে থাকে তাহলে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীকে কেন বললেন, أَوْلِمْ، وَلَوْ بِشَاةٍ কমপক্ষে একটি ছাগল দিয়ে হলেও ওলিমা কর!!

এজন্য বললাম, নবীদের জীবনী, সীরাত আলোচনা করতে গিয়ে যে পন্থা উনি অবলম্বন করেছেন, এটা কি ভালো পন্থা? তিনি তো চাইলে এভাবেও বলতে পারতেন, ভাই! রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত যেহেতু খেজুর দিয়ে ওলিমা করতেন তাই তোমরা খেজুর দিয়ে ওলিমা করাটাকে গ্রহণ কর।

হাঁ, ওটা ভিন্ন কথা যে, খেজুর ছিটানোটাই ওলিমা, নাকি শুধু আকদের মজলিসে খেজুর ছিটানো আর ওলিমা ভিন্ন। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ এবং সেটার তাহকীক দরকার। সেটা আলেমদের কাছ থেকে তাহকীক করে নিয়েন।

এখন তো আর আমি সবকিছু বিস্তারিত বলছি না। কিন্তু তার কথা যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, শুধু এক বিয়েতেই গোস্ত-রুটির ওলিমা হয়েছে, তাহলে তিনি বিষয়টাকে এভাবেও তো বলতে পারতেন যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেহেতু খেজুর বা পনির দিয়ে বেশির ভাগ সময় ওলিমা করেছেন এজন্য তোমরা সেটা দিয়েই ওলিমা কর। সবাই শুধু গোস্ত-রুটির আয়োজন কেন কর? গোস্ত-রুটি তো তিনি শুধু এক বিয়েতে করেছেন? (তার ধারণা অনুযায়ী) তাহলে গোস্ত-রুটি না হলে ওলিমা হবে না, তোমরা এমন মনে কর কেন?

উনি কথাটাকে এভাবে বলতে পারতেন না? কিন্তু বলেছেন যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মা‘মুল থেকে সরে যাওয়ার কারণে কষ্টের মধ্যে পড়েছেন! এভাবে বলা কি উচিত হয়েছে? তার একথা শুনলে কারো অন্তরে আসতে পারে কি না যে, ওহ! সুন্নতের পরিপন্থী কাজ করার কারণে খোদ রাসূলুল্লাহর উপরও তাকলীফ এসেছে?! নাউযুবিল্লাহ! তার এ গলত এবং অন্যায় উপস্থাপনের কারণে কারো অন্তরে এটা আসতে পারে কি না? তাহলে এসব বিষয়ে যদি উলামায়ে কেরাম ধরেন যে, না, আপনার এ বিষয়গুলো ইসলাহ হওয়ার দরকার। সংশোধন হওয়া উচিত। উলামায়ে কেরাম হকের ওপর আছেন কি না? মনে রাখবেন, আওরাঙ্গাবাদের এই বয়ান কিন্তু তার ছয় নম্বর রুজুর পরের। আচ্ছা বলেন তো, রুজু তো হয় একবার। রুজুর মতো রুজু হলে কি এতবার রুজু করতে হয়? পঞ্চম রুজুর কিছুদিনের মধ্যে কত মুনকার ও বাতিল কথা বলেছেন তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা মুফতী খাযির মাহমুদ কাসেমীর কিতাবে দেখতে পারেন। একেবারে দিন তারিখসহ উল্লেখ করেছেন। আর ষষ্ঠ রুজুর পর তো এখনো পর্যন্ত এই ধারা চলছে।

এমনকি তিনি নতুন বিদআতী উসূল আবিষ্কার করতে আরম্ভ করেছেন!! সে বিষয়ে এখন আর আলোচনা করছি না।

এটা হল এক দিক মাত্র যে, দ্বীনের অনেক কিছুর ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে যবানকে নিয়ন্ত্রণ না করা। সতর্কতা অবলম্বন না করা। এটা শুধু সাহাবীদের ব্যাপারে, ওলীগণের ব্যাপারে, আলেমদের ব্যাপারে হয়নি; বরং নবীদের ব্যাপারেও হয়েছে এবং বহুত হয়েছে। আলেমদেরকে তো পাইকারিভাবে বলে দিয়েছেন– ‘ওলামায়ে সু’। যারা সহীহ মাসআলা বলে তারা ‘ওলামায়ে সু’ আর উনি নিজে নতুন এক গলত মাসআলা আবিষ্কার করেছেন, যেটা থেকে পরে ফিরে এসেছেন। এ গলত মাসআলা বলার সময় বলেছেন যে, যারা এরকম ফতোয়া দেয়, তারা ‘ওলামায়ে সু’। অথচ নিজেই বলছেন গলত মাসআলা। আর যারা সঠিক মাসআলা বলেন তাদের বলছেন, ‘ওলামায়ে সু’!

আপনারা ‘ওলামায়ে সু’-এর অর্থ বোঝেন তো? মন্দ আলেম। অসৎ আলেম। এখন আপনারা বলুন, সঠিক মাসআলা বলনেওয়ালা আলেমদেরকে অসৎ আলেম বলাটা ভালো কাজ না খারাপ কাজ? এটা কি ছোট ভুল না বড় ভুল? একদিকে নিজেই বলছেন, আলেমদেরকে মুহসিন মনে করতে হবে। আলেমদেরকে মুকতাদা মনে করতে হবে। আর এখন নিজেই যারা সহীহ ফতোয়া দেয়, তাদেরকে বলছেন, ওলামায়ে সু! অথচ নিজে দিচ্ছেন গলত ফতোয়া। যদি আপনি সহীহ মাসআলা বলতেন আর বলতেন যে, যারা সহীহ মাসআলার খেলাফ বলে, তারা ওলামায়ে সু, তাও তো একটা কথা ছিল। নিজে বলছেন গলত, আর যারা সহীহ বলেন, তাদেরকে বলছেন– ওলামায়ে সু।

তো, শুধু আলেমদের ব্যাপারে যবান নিয়ন্ত্রণহীন বা ওলীদের ব্যাপারে যবান নিয়ন্ত্রণহীন তা নয়; সাহাবীদের ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে যবান নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে যায়। শুধু এগুলোর মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকছে না; চলে গেছে নবী পর্যন্ত। নবীদের সীরাত আলোচনা করতে গিয়েও যবান নিয়ন্ত্রিত নয়। ভাষা মার্জিত নয়। উপস্থাপন সুন্নত মুতাবেক নয়। উপস্থাপন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নয়; তাহলে এটা কি ছোট ভুল না বড় ভুল? বড় ভুল। শাখাগত ভুল না মৌলিক ভুল? মৌলিক ভুল।

এটা শুধু আমি এক প্রকারের ভুল দেখিয়েছি। একটা ভুল বলিনি কিন্তু। বলেছি এক প্রকারের ভুল। এবং এই প্রকারের ভুলের আপাতত তিনটা দৃষ্টান্ত দিলাম মাত্র। তাও শুধু নবীদের আলোচনা থেকে। আলেমদের ব্যাপারে তো…। এটা হল উনার এক প্রকারের মৌলিক ভুল।

Leave a Reply