edited- টঙ্গী ময়দানের মজলুমান : আমাদের দুটি করণীয়- যাকারিয়া আবদুল্লাহ

মুহাম্মাদ যাকারিয়া আবদুল্লাহ

গত ১ ডিসেম্বর শনিবার টঙ্গীর ময়দানে আগামী বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি-কাজে মগ্ন তাবলীগের সাধারণ সাথী ও উলামা-তলাবার উপর এতায়াতি গোষ্ঠীর নৃশংস হামলার ঘটনা আবারো প্রমাণ করল যে, এ গোষ্ঠী গোমরাহীর দিকে চলে গেছে। এরা এখন ধর্মের নামে প্রকাশ্য অধর্মে লিপ্ত হয়েছে। বৈধ-অবৈধ জায়েয-নাজায়েযের কোনো পরোয়াই এখন এদের মাঝে দেখা যাচ্ছে না। চিন্তা-চেতনা ও বিশ্বাসগত গোমরাহী যে এদেরকে কর্ম ও আমলগত মারাত্মক গোমরাহীরও শিকার করেছে, টঙ্গীর ময়দানে হামলার ঘটনা এর একটি ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত।

একজন সাধারণ মুসলিমেরও অজানা নয় যে, সুনির্দিষ্ট শরঈ কারণ ছাড়া কারো প্রাণহানি ঘটানো মারাত্মক কবিরা গোনাহ। একজন মুসলিমের জান-মালে অন্যায় হস্তক্ষেপ অন্য মুসলিমের উপর হারাম। এই একটি গোনাহই কারো জাহান্নামে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট হতে পারে। প্রশ্ন হচ্ছে, তাবলীগের কাজ কি জাহান্নামে যাওয়ার জন্য?

তা যদি না হয় তাহলে এতদিন পর্যন্ত যারা বুঝে না বুঝে এতায়াতিদের সঙ্গে ছিলেন, যাদেরকে দীনের কথা বলে, জোড়ের কথা বলে টঙ্গীর ময়দানে আনা হয়েছিল, তাদের কি কর্তব্য নয় এই ঘটনার পর এতায়াতিদের সঙ্গত্যাগ করা?

ঐদিন ইজতেমার প্রস্তুতির কাজে মাঠে থাকা অসংখ্য সাথী এখন মারাত্মক আহত অবস্থায় রয়েছেন। উপরন্তু ঘটনার দিন প্রশাসনের ভূমিকাও ছিল রহস্যজনক। এ অবস্থায় আমাদের সর্বস্তরের দীনদার মানুষের দুটি করণীয়ের ব্যাপারে এ লেখায় দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।

এক. এ ঘটনায় এক দু’জন নয়, শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। কাজেই আহতদের সুচিকিৎসার জন্য আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এর পদ্ধতি এই হতে পারে যে, প্রত্যেক হালকা/মহল্লার তাবলীগের সাথী তাদের জিম্মাদারের নেতৃত্বে একটি তাআউনি ফান্ড (সহায়তা তহবিল) গঠন করবেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবেন।

মাদরাসার সম্মানিত মুহতামিম সাহেবানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের কাছে খেদমতের সুযোগ দানের আবেদন করা উচিত। এটা যেমন শারাফত ও ভদ্রতার পরিচায়ক হবে তেমনি ইখলাস ও দীনি মেজাজের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এই খেদমতকে এখন দীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন মনে করতে হবে। শত শত দীনদার বিশেষত উলামা-তলাবার খেদমতে কিছু সময় ও সম্পদ ব্যয় করার সুবর্ণ সুযোগ মনে করতে হবে।

দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, সচেতন মহলের অজানা নয় যে, বর্তমানে মজলুমদের উপরই জুলুম বেশি হয়ে থাকে। আল্লাহ হেফাজত করুন, টঙ্গীর ময়দানের ঘটনাতেও এই আশংকা বড় হয়ে সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও ক্লিপগুলোতে স্পষ্ট দেখা গেছে যে, প্রশাসনের নাকের ডগার উপর এতায়াতিরা গেট ভেঙ্গে দলে দলে ঢুকেছে এবং সংঘবদ্ধভাবে ভিতরের লোকদের উপর চড়াও হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণেও বারবার এসেছে প্রশাসনের রহস্যজনক ভূমিকার কথা।

এই প্রেক্ষাপটে আমাদের কর্তব্য, কোনো মহল এই আহত মজলুম তাবলীগের সাথী ও উলামা-তলাবাকে যেন মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দ্বিতীয়বার নাজেহাল করতে না পারে-সেই ব্যবস্থা এখনই গ্রহণ করা। প্রত্যেক হালকার প্রভাবশালী সাথীদের কর্তব্য সরকার ও প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ে বার্তা পৌঁছানো।

একে তো মজলুমের উপর জুলুম দ্বিগুণ অন্যায়। দ্বিতীয়ত টঙ্গীর ময়দানে আক্রান্ত ব্যক্তিরাই হচ্ছেন এদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ তাবলীগের সাথী ও উলামা-তলাবা। গোটা দেশের মানুষের সহানুভূতি এদেরই সাথে। কাজেই এই ঘটনাটা নির্বাচনেও একটা প্রভাবক ঘটনা হয়ে যেতে পারে। গুটিকয়েক বিচ্ছিন্ন এতায়াতিকে খুশি করতে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ দীনদার জনতাকে বিরূপ করা কোনোভাবেই রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বলা যায় না। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে এই বার্তা পৌঁছে দেয়ার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করাও কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দান করুন। একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আমরা যেন মজলুমানের সহায়তায় এগিয়ে আসি। মনে রাখবেন, ‘আল্লাহ ওই পর্যন্ত বান্দার মদদ করেন যে পর্যন্ত সে তার ভাইয়ের নুসরত করে।’

Leave a Reply