edited- ধর্ম কখনো ভাগ হয় না: আযহার আলী আনোয়ার শাহ

 আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ


বর্তমান তাবলীগ জামাতে যে বিভেদ চলছে, উলামায়ে কেরাম আর এতাআতি, মসজিদে মসজিদে মারামারি, আলাদা আলাদা মারকায, এখন এই বিষয়টা নিয়ে প্রশাসনের একটাই বক্তব্য- ধর্মের নামে এতো বিভেদ কেন? এরাও ধর্ম করবে আপনারাও ধর্ম করবেন এতো বিভেদ কেন?

বিরোধটা কেন হচ্ছে এটা বুঝার জন্যও তো জ্ঞান লাগবে। তাদের তো এই পরিমাণ জ্ঞান নেই, যতটুকু জ্ঞান থাকলে বুঝানো যাবে। আমরা বিরোধিতা করছি কারণ, ওরা কুরআনের বিরুদ্ধে কথা বলছে। কুরআন বলছে, হেদায়েত আল্লাহর হাতে আর মৌলভী সাদ বলছেন হেদায়েত নবীর হাতে। কুরআন বলছে আসহাবে কাহাফের সাথে কুকুর ছিল আর তিনি বলছেন বাঘ ছিল। এটা তো ধর্ম হতে পারে না! ধর্ম কখনো ভাগ হয় না। হক আর বাতিল এক সাথে থাকতে পারে না।

সামনে নির্বাচন তাই প্রশাসন কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না। কিন্তু আমরা চাইলে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিতে পারি। আমরা সুলহে হুদাইবিয়ার অনুসরণ করে আপাতত সুলাহ (সন্ধি) করে নিতে পারি। যেভাবে রাসুল সা. মক্কার কাফেরদের সাথে করেছিলেন।  রাসুল সা. একবার স্বপ্নে দেখলেন- তিনি সাহাবায়ে কেরামদের নিয়ে কাবা ঘর তওয়াফ করছেন। আর নবীদের স্বপ্ন সত্যি হয়ে থাকে। তিনি সাহাবায়ে কেরামদের সামনে এ স্বপ্ন ব্যক্ত করলে সাহাবায়ে কেরাম স্বপ্ন শুনে আনন্দিত হয়ে গেলেন। সবাই তাওয়াফের প্রস্তুতি নিতে লাগলেন।

হিজরি ষষ্ঠ সনে রাসুল সা. সাহাবায়ে কেরামদের সাথে নিয়ে কাবা ঘর তওয়াফের উদ্দেশে রওনা দিয়ে মক্কা থেকে ২০ মাইল দূরে হুদাইবিয়া নামক স্থানে আসলেন। অপর দিকে মক্কার কাফেররা এটাকে হামলার প্ল্যান ধরে নিয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়লো সাহাবায়ে কেরামদের মুকাবিলা করার জন্য।

রাসুল সা. হযরত উসমান রা.কে দূত হিসেবে পাঠিয়ে দিলেন কাফেরদের সাথে আলোচনা করার জন্য। এদিকে শয়তান রটিয়ে দিলো উসমান রা. কে কাফেররা শহীদ করে দিয়েছে। এই খবর প্রকাশ হয়ে পড়লে রাসুল সা. সাহাবাদের ডেকে বললেন- এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আসো জিহাদের জন্য বায়াত হও। সাহাবায়ে কেরাম রাসুল সা. এর হাতে বায়াত হলেন। এরই প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আয়াত নাজিল করেছিলেন, যা আমরা জানি। এর মধ্যে খবর আসলো যে, হযরত উসমান রা. শহীদ হননি এটা একটা গুজব ছিলো। ফলে সাহাবায়ে কেরাম শান্ত হলেন।

এই ঘটনার পর কাফের আর মুসলমানদের মধ্যে সন্ধি হলো- মদিনা থেকে কেউ মক্কায় গেলে তাকে ফেরত দেওয়া হবে না কিন্তু মক্কা থেকে কেউ মদিনায় গেলে ফেরত পাঠাতে হবে। এবং এই বছর তোমরা উমরা পালন করতে পারবে না। আগামী বছর উমরা করতে আসবে, তবে তোমাদের অস্ত্রগুলো খোপের ভেতরে থাকবে, বের করতে পারবে না।

উমর রা. সহ্য করতে না পেরে বললেন, ইয়া রাসুল! আমরা কি হকের উপর নেই! তারা কি বাতিলের অন্তর্ভুক্ত নয়?!

রাসুল সা. বললেন, হ্যাঁ। উমর রা. বললেন, তাহলে এতো শর্ত মেনে আমরা কেন সন্ধি করবো? রাসুল সা. বললেন, কারণ, এটাই আল্লাহ্‌র হুকুম।

এ সন্ধির পর যখন রাসুল সা. সাহাবাদের নিয়ে মদিনায় ফিরে আসছিলেন পথে সূরা ফাতাহ নাজিল হয়। তিনি উমর রা. কে ডেকে উক্ত সূরা শুনিয়ে দিলেন। উমর রা. বললেন, হুজুর! এটার নাম কি বিজয়? রাসুল সা. বললেন, এটাই বড় বিজয়।

এ ঘটনা আমাদের জন্য একটা বড় দৃষ্টান্ত যে, সময়ে সময়ে আমাদের একটু নেমে যেতে হবে। সময়ে সময়ে এমন কিছু করতে হবে, যা আমাদের মন চাচ্ছে না। কিন্তু এর মধ্যেই আল্লাহ্‌ এমন কিছু রেখেছেন, যার ফলাফল আমরা পরবর্তীতে উপভোগ করতে পারব।

আমরা সুলহে হুদাইবিয়ার দিকে তাকিয়ে আপাতত কিছু সময়ের জন্য একটু ধৈর্য ধারণ করি। ইনশাআল্লাহ! দেখা যাবে খুব তাড়াতাড়িই আল্লাহর পক্ষ থেকে নুসরত এসে সব কিছু সমাধান করে দিয়ে যাবে। যারা দীনের জন্য তারা দীন বুঝবে, আর যারা দুনিয়ার জন্য তারা দুনিয়া বুঝবে। আল্লাহ্‌ আমাদের হেফাজত করেন।

Leave a Reply