3 edited=- নান্নু মুন্সী – সাক্ষাৎকার

আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সী। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, অনৈসলামী কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জনসাধারণের পক্ষে দ্বীনি দাওয়াত ও তাবলীগেরও একনিষ্ঠ কর্মী।

সম্প্রতি তাবলীগ জামাতের একটি বিদ্রোহী (এতাআতি) গোষ্ঠী বিশ্ব ইজতেমাস্থল টঙ্গী মাঠের গেট ভেঙ্গে মাঠের ইবাদাতরত, তাবলীগের নিরীহ মুসল্লি, মাদরাসার ছাত্র, শিক্ষক, আলেম-ওলামা সবার উপর সশস্ত্র হামলা করে।

তাবলীগ বার্তার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাওলানা জালালুদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন মাওলানা আরিফুল ইসলাম মাহমুদী। পাঠকের উদ্দেশে তা তুলে ধরা হল-


তাবলীগ বার্তা: দাওয়াত ও তাবলীগের ইতিহাসে এমন নৃশংসতার ঘটনা কখনো তো ঘটেনি। যারা এমন নৃশংসতা চালিয়েছে, তারা এতো উগ্রবাদী হয়ে উঠলো কিভাবে, কোন উদ্দেশ্যে?

নান্নু মুন্সী: সূচনাটা মূলত ভারতের দাওয়াত ও তাবলীগের নিজামুদ্দীন মারকাযে। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বিতর্কিত বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করেই মূলত এই দ্বন্দ্বটা। তো ওখানে নানাভাবেও যখন দ্বন্দ্বের নিরসন হয়নি, তখন মারকায হয়ে যায় দুই ভাগ। মারকাযে হয় মারামারিও।

সে মুহূর্তে মাওলানা আরশাদ মাদানী ছিলেন এতেকাফে। তিনি এতেকাফ শেষ করে এসে দ্বন্দ্ব মেটানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু বিতর্কিত ব্যক্তিগণ তা আমলে নেননি।

সেখানকার স্রোত এসে পড়ে আমাদের বাংলাদেশেও। বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুসারীরা এদেশেও বিশৃঙ্খলার পাঁয়তারা করে। আর এভাবে তারা উগ্রতার পথে হাঁটে।

শেষমেশ তারা যখন দেখলো বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ের কেরামের নেতৃত্বে মূলধারা তাবলীগের হাতে চলে যাচ্ছে, তখন তারা সেটি বানচাল করার অপচেষ্টায় টঙ্গী মাঠে হামলা করে।

তাবলীগ বার্তা: নৃশংস এ হামলার নেপথ্যে কাদের ইন্ধন বলে মনে করেন?

নান্নু মুন্সী: মুষ্টিমেয় কিছু লোক। ওরাই এই হামলার নেপথ্যে ইন্ধন যুগিয়েছে।

তাবলীগ বার্তা: টঙ্গী মাঠে হামলা সম্পর্কে কেউ কেউ বলে থাকেন, তারা (এতাআতি পন্থী) ইজতেমা মাঠ দখল করতেই এমন হামলা চালিয়েছে। তো, ইজতেমা মাঠের হকদার কারা বলে আপনি মনে করেন?

নান্নু মুন্সী: হকের ওপর আছেন ওলামাবান্ধব তাবলীগ জামাত এবং সমস্ত দ্বীনের কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন দারুল উলুম দেওবন্দ ও তাঁর সাথে সম্পৃক্তরা। তাদের হাতেই এ জিম্মাদারী সবসময় থাকতে হবে। তাছাড়া উলামায়ে কেরাম ছাড়া দীন রক্ষার উত্তম জিম্মাদার আর কেউ হতে পারে না।

আর উলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত রায় হলো মাওলানা সাদ কান্ধলভী এ মুহূর্তে ভুলের উপর আছেন। তার অনুসরণই যেখানে নাজায়েজ বলছেন উলামায়ে কেরাম, কাজেই সে নাজায়েজ তার পন্থা অবলম্বন করে তো ইজতেমা হতে পারে না।

তাবলীগ বার্তা: এতাআতিরা প্রচার করে, ইজতেমা মাঠ দখল করতে মাদরাসার ছাত্রদের ওখানে বাধ্য করে নেয়া হয়েছে। জনসাধারণ কিভাবে দেখছে এ বিষয়গুলো?

নান্নু মুন্সী: ছাত্ররা প্রতিবছরই বিশ্ব ইজতেমা মাঠে কাজ করতে যায়। মাঠে কাজ করতে আসে তাবলীগের অন্যান্য সাথীরাও। সে সুবাদে ছাত্ররাও কাজের অগ্রগতির জন্য ইজতেমা মাঠের কাজে শরিক হয়।

অতীতেও তারা এভাবে ইজতেমা মাঠের কাজ করেছে। এটি আমাদের ঐতিহ্য। দীনি কাজে তো জোর জবরদস্তির কিছু নেই। তারা এ ধরনের প্রচার করে ভুল করছেন। পরদিন আমি বিভিন্ন মাদরাসায় যাই তাদেরকে দেখতে। আমি বললে সহ্য করতে পারবেন না যে কী নৃশংসভাবে হামলাযজ্ঞ চালিয়েছে এতায়াতী সন্ত্রাসীরা। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন চিহ্নিত ইন্ধনদাতাদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

আমরা আলেম ওলামাদের সাথে আছি এবং দেশবাসীকে আহ্বান করবো- সবাই যেন নবীর ওয়ারিশ আলেমদের সাথে থেকে দুনিয়া ও আখেরাতের সফলতা অর্জন করেন।

তাবলীগ বার্তা:  আমীন! সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

নান্নু মুন্সী: আপনাদেরও ধন্যবাদ। আপনাদের মেহনত কবুল হোক।

Leave a Reply