edited-প্রতিবেদন- সাদপন্থীদের মিথ্যা অভিযোগে বারিধারা মসজিদের খতীব অপসারিত : নিন্দার ঝড়

তাবলীগ বার্তা ডেস্ক- তাবলীগের চলমান বিবাদে দেশের বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবদের উপর সাদপন্থীদের নির্যাতন, চাকরীচ্যুত করার খবর পাওয়া গেছে।

সম্প্রতি মাওলানা সা’দ সাহেবের অনুসারীদের চক্রান্তের শিকার হয়েছেন বিশিষ্ট আলিম-ই দ্বীন, বাইতুল আতীক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফিয মাওলানা মুফতি মনোয়ার হোসেন।
ইজতেমা মাঠ প্রস্তুত করবার কাজে নিযুক্ত উলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর সা’দপন্থীদের অতর্কিত ও নৃশংস হামলার প্রতিবাদে গঠনমূলক আলোচনা করে মুফতি মনোয়ারের একটি ভিডিও ফেইসবুকে আপলোড করেন। সে ভিডিওর জের ধরে তার উপর ক্ষিপ্ত হয় স্থানীয় সা’দ সাহেবের কিছু অনুসারীরা।

মুফতি মনোয়ার বলেন,

প্রথমে তারা মুঠোফোনে আমাকে হুমকি দেয় ও গালিগালাজ করে। আমি কেন ফেসবুকে প্রতিবাদ করলাম টঙ্গী ইজতেমার মাঠের ঘটনায় এ ব্যাপারে তারা যাচ্ছেতাই বলে আমাকে। এরপর তারা আমাকে মসজিদ থেকে অপসারিত করার চক্রান্ত করে।

তিনি আরো বলেন: “কেবল চাকরির নয়, প্রশ্নটা মূলত ইনসাফ, আদর্শ ও মর্যাদার। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে কোনো মুসলিম কখনো মাথা নত করতে পারে না। ফলে আমি এ অন্যায়ের প্রতিকার চাই। আমি এ ব্যাপারে দেশের আলেম সমাজ, প্রশাসন এবং তাবলীগের মূল ধারার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

ঘটনা বিশ্লেষণে জানা যায়, সা’দপন্থীরা সংগঠিত হয়ে তাঁর বক্তৃতার কিছু কিছু অংশ কেটে নিয়ে বারিধারা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতির সামনে তুলে ধরে মুফতি মনোয়ারকে তাৎক্ষণিক অপসারণের জন্যে চাপ প্রয়োগ করে। তারা অভিযোগ রটায়, মুফতি মনোয়ার তাবলীগ জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন এবং অব্যাহত বক্তৃতা-লেখনীর মাধ্যমে ওই এলাকার সকল মসজিদে তাবলীগ জামায়াতের আনাগোনা বন্ধের ষড়যন্ত্র করেছেন।

এদের চাপে নতি স্বীকার করে মসজিদ কমিটির সভাপতি মুফতি মনোয়ারকে তাঁর ওপর আনিত অভিযোগ ব্যাখ্যা করার সুযোগ না দিয়ে এবং নিয়োগ-অব্যাহতি সংক্রান্ত নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা না করেই সা’দপন্থীদের দাবি অনুসারে তৎক্ষণাৎ তাঁকে অপসারণের ঘোষণা দেন।

উল্লেখ্য, গত ১ ডিসেম্বর ইজতেমার মাঠে কর্মরত তাবলীগের সাথী ও মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় সাদপন্থীরা। এতে ১ জন নিহতসহ আহত হয় বহু সাথী ও মাদরাসা শিক্ষার্থী।

Leave a Reply