সাদপন্থীদের হামলায় আহতদের সংবাদ সম্মেলন ছয় দফা দাবি- বাদ

টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে হামলা প্রতিবাদে আগামী শুক্রবার টঙ্গীর সকল মসজিদ ও এলাকা থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন টঙ্গী আহত তাবলীগের সাথী ও উলামায়ে কেরাম।

বুধবার গাজীপুরের টঙ্গীতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, আগামী বিশ্ব ইজতেমা পূর্বঘোষিত প্রথম ধাপ চলতি বছরের ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারি এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণসহ ছয় দফা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুফতি মুহাম্মদ আবু বকর কাসেমী।

এ সময় মাওলানা মুফতি মাসউদুল করীম, মাওলানা জাকির হোসাইন, মাওলানা ইউনুস শাহেদী, মাওলানা সিরাজুল ইসলামসহ সংঘর্ষের দিন সাদপন্থীদের হামলায় আহত বেশ কয়েকজন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন।

মাওলানা মুফতি মাসউদুল করীম সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, শুরা সদস্যদের উপেক্ষা করে মাওলানা সা’দ নিজেকে মুসলিম বিশ্বের আমির দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন ‘তাকে আমির না মানলে জাহান্নামে যাও।’

তিনি বলেন, এসব ঘোষণাসহ তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও বক্তব্য নিয়ে দিল্লি মারকাজে রক্তারক্তিও হয়েছে। যা তাবলীগ জামাতের উসুলের খেলাফ।

সংবাদ সম্মেলনে তাবলিগ জামাতের এই নেতৃবৃন্দ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন।

দাবিগুলো হচ্ছে- ১ ডিসেম্বর (শনিবার) ইজতেমা ময়দানে হামলার নির্দেশদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম, সাহাবুদ্দিন নাসিমসহ টঙ্গী ও উত্তরা থেকে নেতৃত্বদানকারী হামলার সঙ্গে জড়িত সকলকে অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। হতাহতদের ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

টঙ্গী ইজতেমা ময়দান এতদিন যেভাবে শুরাভিক্তিক তাবলিগের সাথী ও ওলামায়ে কেরামের অধীনে ছিল তাদের হাতেই হস্তান্তর করতে হবে।

অতিসত্বর কাকরাইলের সকল কার্যক্রম থেকে ওয়াসিফ ও নাসিমগংদেরকে বহিষ্কার করতে হবে।

সারাদেশে ওলামায়ে কেরাম ও শুরাভিত্তিক পরিচালিত তাবলিগের সার্থীদের ওপর হামলা-মামলা বন্ধ করে পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে ও টঙ্গীর আগামী বিশ্ব ইজতেমা পূর্ব ঘোষিত প্রথম ধাপ চলতি বছরের ১৮, ১৯ ও ২০ জানুয়ারী এবং ২য় ধাপ ২৫, ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তিন হযরত তথা হযরতজী ইলিয়াস রহ. (১৯২৪-১৯৪৫), হযরতজী ইউসুফ রহ. (১৯৪৫-১৯৬৫) এবং হযরতজী এনামুল হাসান রহ. (১৯৬৫-১৯৯৫) পর্যন্ত তাবলিগ কাজে কোনো মতবিরোধ ছিল না। তাদের ইন্তেকালের পর একক কোনো আমির আসবে না; বরং শুরা ও তাৎক্ষণিক ফয়সালার মাধ্যমে সকল কাজ সম্পাদিত হবে।

এই লক্ষে তৃতীয় হযরতজী শুরার জন্য ১০ জনের তালিকা প্রস্তুত করে যান। সে মতে ১৯৯৫ থেকে প্রায় ২০ বছর শুরার ভিত্তিতে এ কাজ পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে হঠাৎ করে মাওলানা সা’দ নিজেকে আমির বলে দাবি করেন। অথচ কোনো পরামর্শ সভাতে তাকে আমির নিযুক্ত করা হয়নি।

মাওলানা সা’দ বিভিন্ন সময় কুরআন-সুন্নাহবিরোধী এমন কিছু বক্তব্য দিয়েছেন যার উপর উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দসহ সারা বিশ্বের হকপন্থী আলেম সমাজ আপত্তি জানিয়ে আসছেন।

তবে মাওলানা সা’দ নিজ অবস্থানে ঠিক থেকে সকল ওলামায়ে কেরামের মতামতকে উপেক্ষা করেছেন।

এমতাবস্থায় সারা বিশ্বের সকল হকপন্থী ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নেন মাওলানা সা’দ তার শরীয়তবিরোধী বক্তব্য প্রত্যাহার ও দারুল উলুম দেওবন্দের আস্থা অর্জন না করা পর্যন্ত বাংলাদেশে দাওয়াত ও তাবলিগের কাজের ক্ষেত্রে তার কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।

Leave a Reply