edited -সাদ সাহেবের এতায়াত জায়িয নয়- মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী


তাবলীগ জামা‘আতের বিতর্কিত আমীর মাওলানা সাদ কান্ধলবী সাহেব দ্বীনের বিভিন্ন ব্যাপারে মারাত্মক ভ্রান্তিকর বক্তব্য পেশ করে ভয়ানক গোমরাহীর সৃষ্টি করেছেন। দারুল উলূম দেওবন্দ-এর পক্ষ থেকে তাকে সে ব্যাপারে অনেকভাবে সংশোধনের চেষ্টা করার পরও তিনি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নিজের ভ্রান্ত উক্তিগুলোকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে সংশোধন করছেন না। এমনকি আরো ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো, তার সেই ভ্রান্ত উক্তিগুলোর পক্ষে সাফাই গেয়ে তার কতিপয় অন্ধভক্ত “সাদ সাহেবের ভুলগুলো কি আসলেই ভুল” শিরোনামে প্রচারলিপি ছেপে সাদ সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদগুলোকেই ইসলামের সঠিক মত ও নির্ভুল থিউরি বলে অভিহিত করছেন (নাউযুবিল্লাহ)! যার কারণে অবুঝ বা কম-বুঝমান সাধারণ তাবলীগী মুসলমানগণ ব্যাপকভাবে সেসব ব্যাপারে গোমরাহীতে নিমজ্জিত হচ্ছেন। এমতাবস্থায় সাদ সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদগুলো উম্মতের মধ্যে এক চরম ফিতনার জন্ম দিয়েছে এবং তা ক্রমশ আলাদা বাতিল ফিরকার রূপ পরিগ্রহ করছে।
সাদ সাহেবের সেসব বক্তব্যের অনেকগুলো দ্বীনের মৌলিক ঈমান ও আকায়িদের ব্যাপারে হওয়ার কারণে সেগুলো সরাসরি মুসলমানদের ঈমানের উপর আঘাত হানছে। যেগুলো বিশ্বাস করলে কেউ ঈমানদার থাকতে পারে না। আর কতক বক্তব্য মাসায়িলের ব্যাপারে ভুল তথ্যমূলক হওয়ায় সেগুলো মুসলমানদের ভুল পথে পরিচালিত করছে। এভাবে বিভিন্ন পর্যায়ে তার সেসব ভ্রান্ত মতবাদ উম্মতকে ঈমানহারা করছে অথবা গোমরাহীতে নিমজ্জিত করছে।
তাই সাদ সাহেবের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্ট তাওবা ও রুজু প্রকাশ এবং দেওবন্দের তার প্রতি ইতমিননা না হওয়া পর্যন্ত তার এতায়াতকে বর্জন করা মুসলমানদের কর্তব্য।
বস্তুত উলুল আমর বা আমীরের এতায়াত (اطاعة–আনুগত্য)-এর জন্য তার ইসাবত (اصابة–সঠিক পথের অনুসরণ) শর্ত। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন–
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اَطِیۡعُوا اللّٰہَ وَ اَطِیۡعُوا الرَّسُوۡلَ وَ اُولِی الۡاَمۡرِ مِنۡکُمۡ ۚ فَاِنۡ تَنَازَعۡتُمۡ فِیۡ شَیۡءٍ فَرُدُّوۡہُ اِلَی اللّٰہِ وَ الرَّسُوۡلِ اِنۡ کُنۡتُمۡ تُؤۡمِنُوۡنَ بِاللّٰہِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ ؕ ذٰلِکَ خَیۡرٌ وَّ اَحۡسَنُ تَاۡوِیۡلًا
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হও, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর–যদি তোমরা আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক। আর এটাই উত্তম ও পরিণতির দিক দিয়ে অধিক সুন্দর।”
(আল-কুরআন, সূরাহ নিসা, আয়াত নং ৫৯)
এ আয়াতে মহান আল্লাহ কর্তৃত্বের অধিকারী বা আমীরের আনুগত্যের নির্দেশ দিয়ে তার পরিসীমা নির্ধারণ করেছেন যে, তা হবে ইসাবাতের উপর চলা এবং কোন আপত্তিকর বিষয়ের অবতারণা না করা পর্যন্ত। এ আয়াতে মহান আল্লাহ ও তদীয় রাসূলের ক্ষেত্রে এতায়াতের নির্দেশমূলক শব্দকে পুনরাবৃত্তি করা এবং উলুল আমরের বেলায় তাকে পুনরাবৃত্তি না করার মধ্যে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। বিভিন্ন তাফসীরের কিতাবে এ বিষয়টিকে এভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, এ বিষয়টিকে ব্যাখ্যা করে বিশিষ্ট মুফাসসির শাইখ মুহাম্মদ আল-আমীন শানক্বীত্বী “আজওয়াউল বায়ান ফী ঈজাহিল কুরআন বিল-কুরআন”-এর মধ্যে বলেন–
فكرر الفعل بالنسبة لله وللرسول، ولم يكرره بالنسبة لأولي الأمر، لأن طاعتهم لا تكون استقلالًا، بل تبعًا لطاعة الله، وطاعة رسوله، كما في الحديث: لا طاعة لمخلوق في معصية الخالق
“এ আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা এতায়াতের ফি‘লকে আল্লাহ ও রাসূলের ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি করেছেন, কিন্তু উলুল আমর-এর বেলায় পুনারাবৃত্তি করেননি। কেননা, উলুল আমরের এতায়াত-আনুগত্য স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে না, বরং তা আল্লাহর এতায়াত-আনুগত্যের ও রাসূলের এতায়াত-আনুগত্যের অনুগামী হবে। যেমনভাবে হাদীসে রয়েছে–খালিকের নাফরমানীতে কোন মাখলূকের আনুগত্য হতে পারে না।”
(আজওয়াউল বায়ান ফী ঈজাহিল কুরআন, ৮ম খ-, ২০৩ পৃষ্ঠা)
তাই যখন উলূল আমর বা আমীর সাহেব ইসাবাতকে অবলম্বন করেন, কেবল তখনই তার এতায়াত করা আবশ্যক হবে। কিন্তু যদি তিনি কখনো ইসাবাতকে উপেক্ষা করেন বা ভ্রান্ত পথে চলেন, তখন তার এতায়াত করা জায়িয হবে না। এ সম্পর্কে হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
لَا طَاعَةَ لِمَخْلُوْقٍ فِيْ مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ
“আল্লাহ-খালিকের নাফরমানীতে কোন মাখলূকের কোনরূপ এতায়াতের কোন অবকাশ নেই।”
(আল-জামিউস সগীর, হাদীস নং ৯৯০৩/ সহীহুল জামি‘, হাদীস নং ৭৫২০/ দারাকুতনী-তারীখে বাগদাদ, ৩য় খ-, ৩৬২ পৃষ্ঠা)
তেমনিভাবে এ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বাস্তবভাবে সমাধান লাভ করা যায় নিম্নোক্ত হাদীসের নির্দেশনা দ্বারা–
عَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ بَعَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَرِيَّةً فَاسْتَعْمَلَ رَجُلًا مِنْ الْأَنْصَارِ وَأَمَرَهُمْ أَنْ يُطِيعُوهُ فَغَضِبَ فَقَالَ أَلَيْسَ أَمَرَكُمْ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُطِيعُونِي قَالُوا بَلَى قَالَ فَاجْمَعُوا لِي حَطَبًا فَجَمَعُوا فَقَالَ أَوْقِدُوا نَارًا فَأَوْقَدُوهَا فَقَالَ ادْخُلُوهَا فَهَمُّوا وَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يُمْسِكُ بَعْضًا وَيَقُولُونَ فَرَرْنَا إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ النَّارِ فَمَا زَالُوا حَتَّى خَمَدَتْ النَّارُ فَسَكَنَ غَضَبُهُ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ لَوْ دَخَلُوهَا مَا خَرَجُوا مِنْهَا إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ الطَّاعَةُ فِي الْمَعْرُوفِ
হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন–রাসূলুল্লাহ (সা.) একটি অভিযানকারী দল পাঠালেন। তাতে (আবদুল্লাহ ইবনে হুজাফাহ নামক) আনসারের এক ব্যক্তিকে আমীর নিযুক্ত করলেন এবং তাদেরকে বললেন যে, তারা তার এতায়াত করবেন। সেই আমীর সাহেব (কোন ব্যাপারে) রাগান্বিত হলেন। তখন তিনি বললেন, ব্যাপার কি এটা নয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) আপনাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, আপনারা আমার এতায়াত করবেন? তারা বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। তখন তিনি বললেন, তাহলে আপনারা আমার জন্য লাকড়ি জমা করুন। তখন তারা লাকড়ি জমা করলেন। এরপর তিনি বললেন, আপনারা আগুন জ্বালান। তখন তারা আগুন জ্বালালেন। অতঃপর আমীর সাহেব নির্দেশ দিলেন, আপনারা এ আগুনে প্রবেশ করুন। এ নির্দেশ শুনে (তার এতায়াতের জন্য) তারা সেই আগুনে প্রবেশ করতে উদ্যত হলেন। এ সময় তাদের কতিপয় লোক (এতায়াত বাদ দিয়ে ইসাবাত অবলম্বন করে আগুনে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকলেন এবং সেই সাথে) অন্যদেরকে আটকাতে লাগলেন এবং বলতে লাগলেন, আমরাতো (ঈমান আনার মাধ্যমে জাহান্নামের) আগুন থেকে পরিত্রাণ লাভ করে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর দিকে ফিরে এসেছি। (সুতরাং আমরা এ আগুনে প্রবেশের ব্যাপারে আমীরের এতায়াত করতে পারি না।) তারা এভাবেই করতে থাকেন যে, ততক্ষণে সেই আগুন নিভে যায়। অতঃপর আমীর সাহেবের রাগ প্রশমিত হয়। তখন এ সংবাদ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট পৌঁছে। তা শুনে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললে–“যদি তারা সেই আগুনে প্রবেশ করতো, তাহলে (তা আত্মহত্যার অন্যায় কাজ হওয়ার কারণে শাস্তিস্বরূপ) কিয়ামত পর্যন্ত তাত্থেকে নিষ্কৃতি পেতো না। এতায়াত তো শুধু ন্যায়সঙ্গত ব্যাপারে হবে। (গুনাহের ব্যাপারে এতায়াত হতে পারে না।)”
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৪০৮৫ == অনুরূপ : সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৮৩০/ সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৮৪০ ও ৩৪২৪/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬২৫ প্রভৃতি)
পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বর্ণিত উক্ত নির্দেশনাসমূহ দ্বারা সাদ সাহেবের ভ্রান্ত পথে চলার তার এতায়াত নাজায়িয হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। এমনকি এমতাবস্থায় সাদ সাহেবের কোন বয়ান বা শরয়ী নির্দেশনা শোনাও জায়িয হবে না। এ সম্পর্কে শরয়ী উসূল বর্ণনা করে হাদীস শরীফে বলা হয়েছে–
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ عَنْ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ فَإِذَا أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلَا سَمْعَ وَلَا طَاعَةَ
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি নবী কারীম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন–“(উলুল আমরের কথা) শোনা ও মানা আবশ্যক হবে প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির যে ব্যাপারে সে পছন্দ করে বা অপছন্দ করে যাবত অন্যায়ের নির্দেশ দেয়া না হবে। কিন্তু যখন অন্যায়ের নির্দেশ দেয়া হবে, তখন (তার কথা) শোনাও যাবে না এবং মানাও যাবে না।”
(সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৬৭২৫/ জামি‘ তিরমিযী, হাদীস নং ১৭০৭/ সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ২৬২৬/ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ২৮৬৪)

সাদ সাহেবের ভুলগুলো আসলেই ভুল
অত্যন্ত দুঃখজনক ব্যাপার হলো, অধুনা সাদ সাহেবের বিভিন্ন ভ্রান্ত কথাবার্তা তাবলীগের মানুষের মধ্যে মহামারির ন্যায় ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তাদের দ্বীন ও ঈমান শংকার মধ্যে পড়ে গিয়েছে। তদুপরি আরো মারাত্মক ব্যাপার হলো–খোদ সাদ সাহেব যেখানে তার বক্তব্যসমূহের অনেকগুলোকে ভুল, মারজূহ ও অনুচিত বলে স্বীকার করে রুজূর কথা বলেছেন, অথচ সেগুলোসহ তার সকল বক্তব্যের পক্ষে সাফাই গেয়ে সেসবকে সঠিক ও নির্ভুল দাবী করে তার কিছু অন্ধ ভক্ত “মুহতারম মাওলানা সাদ (দা. বা)-এর উপর আরোপিত ভুলগুলো কি আসলেই ভুল!!!” নামে বই ছেপে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। এতে তারা সাদ সাহেবের সেসব মনগড়া কথাবার্তা দ্বারা মানুষের আরো মারাত্মকভাবে গোমরাহ হওয়ার বিরাট ফাঁদ রচনা করেছেন।
তেমনি সাদ সাহেবের আরো কিছু অন্ধভক্ত “তাবলীগ জামাতের বর্তমান সংকটে হযরত মাওলানা সাদ সাহেবের কিছু অজানা কথা” নামে আরেকটি বই লিখে তার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। যা ইসলাহের নামে ইফসাদ সৃষ্টি করছে।
এসব বই প্রকাশের ফল এই হয়েছে যে, সাদ সাহেবের সেসব ভ্রান্ত কথাবার্তার দ্বারা উম্মতের যে ক্ষতি হওয়ার আশংকা করা হচ্ছে, তা যেন আরো প্রবল বেগে ধাবিত হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কেননা, দারুল উলূম দেওবন্দ ও হক্কানী উলামায়ে কিরামের প্রতিবাদ ও বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে সাদ সাহেবের সেসব ভ্রান্ত মতবাদ অনেকটা কোনঠাসা অবস্থায় পড়েছিল, সেখানে বহু কওমী আলেম ও মুফতীর সমর্থন ও সত্যায়নের নাম করে সাদ সাহেবের সেসব মতধারাকে সঠিক বলে দাবী করতঃ তার সাফাইয়ের পক্ষে প্রমাণ পেশ করার বাহানায় মানুষকে ধোঁকা দিয়ে সাদ সাহেবের সেসব মারাত্মক গোমরাহী মতবাদসমূহের দ্বারা মানুষকে তড়িৎবেগে খুব সহজেই আক্রান্ত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। (নাউযুবিল্লাহ)
অথচ সেই বইসমূহ এবং এ জাতীয় আরো যেসব বই প্রকাশিত হয়েছে, সেসব দ্বারা সাদ সাহেবের ভ্রান্ত মতবাদগুলো কখনো সঠিক বিবেচিত হতে পারে না। কেননা, সাদ সাহেবের সেসব ভ্রান্ত মতধারাগুলো জুমহুর উলামায়ে কিরামের সর্বসম্মত ফাতওয়ায় সম্পূর্ণ বাতিল ও ভ্রান্ত বলে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এ জন্যই ফলতঃ দেখা যায়, সেই বইগুলোতে ব্যাপক কারচুপির আশ্রয় নেয়া হয়েছে এবং শাক দিয়ে মাছ ঢাকার মতো গোঁজামিল দিয়ে সাদ সাহেবের ভুলগুলোকে শুদ্ধ বলে প্রমাণের ব্যর্থ চেষ্টা চালানো হয়েছে। যেমন, উদাহরণ স্বরূপ, সাদ সাহেব বলেছেন–
“হযরত যাকারিয়া (আ.) আল্লাহকে বাদ দিয়ে গাছের কাছে আশ্রয় চাইলেন। ফলে তাঁকে শাস্তি ভোগ করতে হল।”
হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর উপর এ অপবাদ আরোপ করে তাঁর তাকওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রচেষ্টা সম্বলিত সাদ সাহেবের সেই ভ্রান্ত কথাকে সঠিক প্রমাণ করার জন্য উক্ত বইতে তার অন্ধভক্তগণ কয়েকটি ইসরাঈলী রিওয়ায়াত তুলে ধরেছেন–যেগুলোতে বলা হয়েছে যে, যাকারিয়া (আ.)কে হত্যা করার জন্য লোকেরা তার পিছু নিলে তিনি পালিয়ে যান। তখন একটি গাছ তাঁর নিকট আবেদন করে তার ভিতরে ঢুকার জন্য এবং গাছটি তাকে জড়িয়ে নেয়। সেসময় শয়তান এসে যাকারিয়া (আ.)-এর চাদরের অংশ ধরে রাখে। যদ্দরুণ তার কিয়দাংশ বাহিরে থেকে যায়। আর তা বাতাসে নড়তে থাকে। তখন শয়তান হযরত যাকারিয়া (আ.)-এর চাদরের সেই অংশ দেখিয়ে দেয় এবং বলে, যাকারিয়া (আ.) এ গাছের ভিতরে ঢুকেছেন, সুতরাং তোমরা তাকে সমেত এ গাছটিকে কেটে ফেলো। গাছটিকে তারা পূজা করতো, তাই তারা তাকে কাটতে চাচ্ছিলো না। অবশেষে শয়তানের প্ররোচনায় তারা গাছটিকে কেটে ফেললো এবং যাকারিয়া (আ.)কেও কেটে ফেললো।
একেতো এগুলো ইসরাইলী রিওয়ায়াত হওয়ার কারণে এ ঘটনাটি আগাগোড়া মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া এসব বর্ণনার কোথাও এ কথা নেই যে, হযরত যাকারিয়া (আ.) সেই গাছটির নিকট আশ্রয় চেয়েছেন। বরং গাছটিই যাকারিয়া (আ.)-এর নিকট তার ভিতরে প্রবেশ করার জন্য আবেদন করেছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এসব দলীল দ্বারা সাদ সাহেবের সেই ভ্রান্ত বর্ণনা সঠিক বলে প্রমাণিত হয় না।
এভাবে সেই বইগুলোর সব বিষয়ই গোঁজামিল দিয়ে ও ভ্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করে সাদ সাহেবের ভ্রান্ত কথাগুলোকে সঠিক প্রমাণের চেষ্টা করে মারাত্মক ফিতনা ও গোমরাহী ফাঁদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ সম্পর্কে মাসিক আদর্শ নারীতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। মহান আল্লাহ আমাদেরকে হককে হকরূপে বুঝার এবং বাতিলকে বাতিলরূপে চেনার তাওফীক দিন। আমীন।

মুফতী আবুল হাসান শামসাবাদী
সম্পাদক, মাসিক আদর্শ নারী
১১/১, পুরানা পল্টন লাইন, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭১৫-০৩৯৩৯৯


কনভার্ট কৃত ফাইল

Leave a Reply