কিশোরগঞ্জে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করেই সাদপন্থীদের ইজতেমার প্রস্তুতি, আলেমদের প্রতিবাদ

জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করেই কিশোরগঞ্জে সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমার প্রস্তুতি চলছে।

বুধবার (২ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে সাদপন্থীদেরকে জেলা ইজতেমা বন্ধকরণ বিষয়ে একটি নোটিশ দেওয়া হয়। তারপরও সরকারি নির্দেশনা অমান্য করেই চলছে সাদপন্থীদের ইজতেমার আয়োজন।

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গত ০১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ৫৪তম বিশ্ব ইজতেমার তারিখ নির্ধারিত না করা পর্যন্ত কোনো গ্রুপ কর্তৃক দেশের কোথাও জোড়, ইজতেমা, জেলা ইজতেমা, প্রস্তুতিমূলক যে কোনো কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা রয়েছে।

জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলাধীন চৌদ্দশত ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামে আগামী ৮, ৯ ও ১০ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমার ঘোষণা দিয়েছে সাদপন্থীরা। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অমান্য করেই সাদপন্থীরা তাদের ইজতেমার প্রস্তুতির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কিশোরগঞ্জ থেকে মাওলানা আবদুল্লাহ সাদেক জানান, ওলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সাদপন্থীদের জেলা ইজতেমার প্রস্তুতিতে ওলামায়ে কেরাম, দীনদার মানুষ ও তাবলিগের সাথীরা ক্ষুব্ধ। এর প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার কয়েক হাজার স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও তাবলিগ সাথীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এর পরও যদি সাদপন্থীরা কিশোরগঞ্জে জেলা ইজতেমা করে তাহলে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও তাবলিগ সাথীরা আগামী ৭ তারিখে কিশোরগঞ্জে গণঅবস্থান করবেন।

উল্লেখ্য, ইসলামের বিধি-বিধান বিষয়ে তাবলিগের মাওলানা সাদ-এর একাধিক বিভ্রান্তিমূলক বয়ান ও বক্তব্যের কারণে সারা বিশ্বে তিনি এখন বিতর্কিত একজন ব্যক্তি। উলামায়ে কেরাম মনে করেন, দীনি বিষয়ে তিনি অনুসরণযোগ্য নন। তবে মাওলানা সাদের অন্ধ অনুসারীরা তার আনুগত্য ও নেতৃত্বের প্রশ্নে অনঢ়।

এ বিবাদকে কেন্দ্র করে গত ১ ডিসেম্বর ঢাকার টঙ্গী ইজতেমার ময়দানে সাদপন্থী সন্ত্রাসীরা শত শত ওলামায়ে কেরাম, হাজার হাজার মাদরাসার ছাত্র ও তাবলিগের সাথীর ওপর হামলা করে তাদেরকে রক্তাক্ত ও ভীষণভাবে জখম করে। এই ঘটনায় দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও একাধিক মামলা হয়েছে।

Leave a Reply