বিশ্বময় তাবলীগ ক্রমবিকাশ ইতিহাস- মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


  মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাযি


প্রায় শত বৎসর আগের কথা। দিল্লীর উপকণ্ঠে নিযামুদ্দীন আউলিয়া রহ. মাযার থেকে অনতিদূরে ‘চৌষট্টি খাম্বা’ নামে যে ঐতিহাসিক ভবন রয়েছে তার লাল ফটক সংলগ্ন একটি ঘরে বসবাস করতেন সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল।

হযরত মাওলানা ইসমাইল সাহেবের ছিল তিন পুত্র। মাওলানা মুহাম্মদ, মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া ও মাওলানা মোহাম্মদ ইলিয়াস।

১৩১৫ হিজরী সালের চৌঠা শাওয়াল, ২৬ শে ফেব্রুয়ারি ১৮৮৯ খৃষ্টাব্দে ইন্তেকাল করেন মাওলানা মুহাম্মদ ইসমাইল সাহেব। বড় সন্তান মাওলানা মুহাম্মদ পিতার স্থলাভিষিক্ত হন। ১৩৩৬ হিজরীর ২৫শে রবিউস-সানি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব। এরও দু’বছর আগে এই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়ে গিয়েছিলেন মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, হযরত ইলিয়াস সাহেবের মেজো ভাই।

মাওলানা মুহাম্মদ সাহেবের ইন্তেকালের পর নিজাম উদ্দিনে পিতার প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ও দ্বীনী দাওয়াতী কাজের জিম্মাদারী গ্রহণের জন্য এ খান্দানের ভক্ত অনুরক্ত ব্যক্তিরা মাওলানা ইলিয়াস সাহেব কে জোর অনুরোধ করতে থাকেন। এবং মাদ্রাসার সর্বপ্রকারের খেদমতের ওয়াদা পূর্বক ব্যয় নির্বাহের জন্য কিছু মাসিক চাঁদা ধার্য করেন।

মাওলানা তাদের অনুরোধের প্রেক্ষিতে দায়িত্বভার গ্রহণ করলেও স্থায়ীভাবে আগমনের বিষয়টি সাহারানপুরী হযরতের অনুমতির উপর ঝুলন্ত রাখেন। দারুল উলুম দেওবন্দের ফাযেল এই কৃতি সন্তান (হযরত ইলিয়াস রহ.) তখন সাহারানপুর মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। সাহারানপুর গিয়ে সাহারানপুরী হযরতের কাছে এ ঘটনা বিস্তারিত বর্ণনা করেন তিনি। হযরত তাকে পরীক্ষামূলক মাদ্রাসা থেকে এক বৎসর ছুটি গ্রহণের পরামর্শ দেন।

হযরত ইলিয়াস রহ. মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বরাবর এইভাবে আবেদন করেন-

হযরত মুহতামিম সাহেব

মাসনুন সালামবাদ নিবেদন এই যে, ভাই জনাব মাওলানা মুহাম্মদ সাহেব এর ইন্তেকালের শোকাবহ ঘটনার প্রেক্ষিতে মাদ্রাসা নিজাম উদ্দিন এর ইন্তিজাম ও দেখাশোনার জন্য কিছুদিন সেখানে আমার থাকা দরকার। যেহেতু অধিকাংশ শহরবাসী অধমের মুহিব্বীন ও বিদ্যানুরাগী ব্যক্তিগণ তাগাদা দিচ্ছেন যেন আমি অধম সরাসরি সেখানে অবস্থান করি। তাছাড়া মহান পিতা ও ভ্রাতার শিক্ষা-দীক্ষা ও মেহনত মুজাহাদার বরকতে জ্ঞান ও শিক্ষার আলো থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ওই মূর্খ গোয়ার মানুষগুলোর মাঝে জ্ঞান ও শিক্ষা এবং ইলম ও তালীম প্রচারের যে সুফল অর্জিত হয়েছে তা দেখে নিজের অন্তরেও আকাঙ্ক্ষা জাগছে যে, কিছুদিন সেখানে অবস্থান করে উক্ত মেহনত পুনরায় চালুর চেষ্টা করি এবং এই মহান দ্বীনি কাজেও কিছু হিসসা লই। তাই অনুগ্রহ পূর্বক এক বছর সময়ের জন্য অধমের ছুটি মঞ্জুর করা হোক।
ওয়াসসালাম
ইতি বান্দা মোহাম্মদ ইলিয়াস আখতার
(দ্বীনি দাওয়াত : সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রচিত ও মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ অনূদিত)

তাবলীগী গাশতের শুরু

দিল্লির দক্ষিণে প্রাচীনকাল থেকেই মেও জনগোষ্ঠীর বসবাস। পিতা হযরত ইসমাইল সাহেবের সময়কাল থেকে এ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠে মেওয়াতীদের। এ জনগোষ্ঠীর দ্বীন সম্পর্কে উদাসীনতা দেখে তাদের মাঝে দ্বীন প্রচারের কাজ শুরু করেছিলেন মাওলানা ইসমাইল।

মাওলানা ইলিয়াস রহ. মেওয়াতে প্রথমে মক্তব প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু এতে তেমন সারা পড়েনি। তিনি ভাবলেন, যদি আগে ব্যক্তিগতভাবে দাওয়াত দিয়ে বড়দের মন মানসিকতা ঠিক না করা যায় তাহলে এই উদ্যোগের তেমন প্রভাব পড়বে না। তাই তিনি গাশতের মাধ্যমে ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার করা শুরু করলেন। এ থেকেই গাশত শুর।

হযরত ইলিয়াস রহমাতুল্লাহি আলাইহি ইন্তেকাল করেন ১৪৪৪ হিজরীতে। তারপরে তাবলীগের জিম্মাদারী গ্রহণ করেন মাওলানা ইউসুফ সাহেব। ১৯৬৫ সালে হযরত ইউসুফ সাহেবের ইন্তেকালের পর মেওয়াতিরা বংশীয় সিলসিলায় মাওলানা হারুন সাহেবকে আমির বানানোর দাবি করেছিল। কিন্তু মাওলানা ইলিয়াস রহ.-এর ভাতিজা শায়খুল হাদিস জাকারিয়া রহ. যাকে মাওলানা ইলিয়াস রহ.-ই তাবলীগের কাজের পৃষ্ঠপোষক ও মুরব্বি বানিয়েছিলেন, তিনি মাওলানা হারুনকে বোঝালেন, ‘তুমিও যোগ্য, কিন্তু দাওয়াত ও তাবলীগের কাজের স্বার্থে যোগ্যতা বেশি থাকার কারণে মাওলানা এনামুল হাসান এ পদের জন্য বেশি উপযুক্ত।’ তখন মাওলানা হারুন রহ. এনামুল হাসান রহ.-কে আমির হিসেবে মেনে নেন এবং তার হাতে বায়াত হয়ে যান।

শূরা-ই নেযাম শুরু

১৯৯৫ সালে হজরতজি এনামুল হাসান রহ.-এর ইন্তেকালের পর ফেতনা অঙ্কুরিত হয় নতুন করে এবং মাওলানা যুবায়েরুল হাসান রহ.-এর ইন্তেকালের পর তা প্রকাশ্যরূপ লাভ করে। ফেতনার আশঙ্কা মাথায় রেখেই মূলত হজরতজি এনামুল হাসান রহ. যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নিজের একমাত্র পুত্রসন্তান মাওলানা যুবায়েরুল হাসান রহ.-কে তার পরবর্তী আমির নির্বাচন না করে সারা বিশ্বের এই কাজকে সামলানোর জন্য তিন দেশের যোগ্য কিছু হজরতের সমন্বয়ে ১০ জনের শূরা বানিয়ে যান।

ওই ১০ জন হজরতজি এনামুল হাসান (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর সর্বপ্রথম যে পরামর্শসভায় বসেন, সেখানে মাওলানা সাদ নিজস্ব রায় প্রকাশ করেন যে, ‘আপনারা এককভাবে কাউকে আমির বানাবেন না, আমাকে আমির বানালে দিল্লিওয়ালারা কেটে পড়বে বা হাঙ্গামা করবে আর যুবায়ের সাহেবকে আমির বানালে মেওয়াতিরা কেটে পড়বে বা হাঙ্গামা করবে।’

অতঃপর ওই পরামর্শসভায় এটাই সিদ্ধান্ত হয় যে, একক কোনো আমির নয়, তিনজনের ফয়সালায় নিযামুদ্দীন পরিচালিত হবে। আর নিযামুদ্দীনে বায়াত বন্ধ থাকবে। তিনজন হলেন ১. মাওলানা ইজহারুল হাসান ২. মাওলানা যুবায়েরুল হাসান ও ৩. মাওলানা সাদ।
এভাবেই প্রায় ১৯ বছর হজরতজি (রহ.)-এর বানানো শূরা বিশ্ব তাবলীগের কাজ পরিচালনা করতে থাকে। অন্যদিকে হজরতজির বানানো শূরা নিজামুদ্দীনের পরিচালনাকার্য শুরু করার পর ১৯৯৬ সালেই মাওলানা ইজহারুল হাসান রহ. ইন্তেকাল করেন। তার ইন্তেকালের পর ওই শূন্যপদ পূরণের জন্য নিজামুদ্দীনের মুরব্বিদের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু মাওলানা সাদের অনিচ্ছা ও অসহযোগিতার কারণে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ২০১৪ সালে মাওলানা যুবায়েরুল হাসানের ইন্তেকালের আগ পর্যন্ত শূরার শূন্যপদ পূরণের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু তা কাজে আসেনি।

২০১৪ সালে মাওলানা যুবায়ের সাহেবের ইন্তেকালের পর কোনো পরামর্শের ব্যবস্থা না করে মাওলানা সাদ একক আধিপত্য বিস্তার করতে থাকেন। মেওয়াত থেকে তার অনুসারীদের নিযামুদ্দীন মারকাজে জড়ো করে রাখেন। তার একক কর্তৃত্বে কাজ করার জন্য নিজামুদ্দীনের মুরব্বিদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এর ফলে ২০১৫ সালের আগস্টে দোয়ার পর মোসাফাহা করাকে কেন্দ্র করে নিযামুদ্দীন মারকাজে প্রথম হাঙ্গামা হয়। (যা দিল্লির উর্দু পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।) অতঃপর ২৩ আগস্ট নিযামুদ্দীন বস্তির তাবলীগের জিম্মাদার সাথীদের সঙ্গে মশওয়ারার কামরায় মাওলানা সাদের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওই মজলিসে মাওলানা সাদ নিজেকে আমির দাবি করেন। এরপর থেকেই শুরু হয় এই পবিত্র কাজে মতানৈক্য। প্রথমে দিল্লির মারকাজে অতঃপর তা ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তান সহ বিভিন্ন দেশে। সর্বশেষ দুই বৎসর যাবত এই ফিতনা চলছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে তাবলীগ

নিযামুদ্দীন কেন্দ্রিক সবে মাত্র শুরু হয়েছে তাবলীগের এ কাজ। কলকাতার কয়েকটি মসজিদেও এর চারা রোপণ করা হয়েছে। মর্দে মুজাহিদ হযরত মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী নিযামুদ্দীনে গেলেন হযরত ইলিয়াস রাহমাতুল্লাহি আলাইহির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। মাওলানা ইলিয়াস সাহেব মুজাহিদে আজম হযরত মাওলানা শামসুল হক সাহেব কে সাদর অভ্যর্থনা জানান। জড়িয়ে ধরে বলেন, তোমার বাংলাদেশে তাবলীগের দায়িত্ব নিতে হবে। সদর সাহেবও তা সাদরে গ্রহণ করেন।

হযরত সদর সাহেব ছিলেন নানা কাজে ব্যস্ত। মসজিদ মাদ্রাসা পরিচালনা, মক্তব নির্মাণ, রাজনৈতিক আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, কুফর শিরিক বিদআত উৎখাত আন্দোলন এমন সব কাজে সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকতেন তিনি। এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও তিনি কিন্তু ওই দায়িত্বের কথা ভুলে যাননি।

একবার খুলনার মোল্লারহাট থানার উদয়পুরের অলিয়ে কামেল হযরত মাওলানা সৈয়দ আব্দুল হালিম সাহেবের দাওয়াতে উনার মাদ্রাসায় তাশরীফ রাখেন সদর সাহেব। হুজুর ওই মাদ্রাসা পরিদর্শন করতে গিয়ে ঘুরে ঘুরে সব দেখছেন। এমন সময় নজর পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের ওপর। তিনি হচ্ছেন উদয়পুর মাদরাসার ওস্তাদ পীর সাহেবের জামাতা হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ। যাকে আমরা তাবলীগের বড় হুজুর নামে চিনি। হুজুর জিজ্ঞেস করলেন বাবা তুমি এখানে কি কর? বললেন, আমি এখানকার শিক্ষক পীর সাহেবের জামাতা। তুমি আমার সাথে চলো! মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব রাজি হয়ে গেলেন এবং বললেন হুজুর আমার শ্বশুরের নিকট একটু অনুমতি নিতে হবে। মুজাহিদে আজম বলেন, এটা আমার দায়িত্ব। তিনি পীর সাহেব হুজুর কে বললেন আপনার জামাতাকে আমি নিয়ে গেলাম। পীর সাহেব হুজুর বললেন,আলহামদুলিল্লাহ! কোথায় নিবেন, কি করবেন কিছু জানা নেই। এই ছিল সদর সাহেবের উপর পীর সাহেবের আস্থার নমুনা।

এই দু’জনে সোজা গিয়ে কলিকাতার তাবলীগ মারকাযে হাজির হলেন। নাম লেখালেন তিন চিল্লায়। এবং শেষ করে নিযামুদ্দীন হাজির হয়ে পরামর্শ করে আবার সেই উদয়পুরে ফিরে এলেন।
উদয়পুর মাদ্রাসা মসজিদ মারকায হিসেবে ঠিক হলো। শুরু হলো বাংলার জমিনে এ পদ্ধতিতে দাওয়াতি কাজ। পরামর্শ করে হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব কে আমির বানিয়ে দেয়া হল। দুই তিন বৎসর কাজ চলার পর একসঙ্গে মাদ্রাসা ও তাবলীগের কাজে কিছু অসুবিধা হওয়ায় পরামর্শ করে হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেবের গ্রামের বাজার মসজিদ তেরখাদা থানার বামনডাঙ্গায় নেওয়া হলো। এটা হলো বাংলাদেশে তাবলীগের দ্বিতীয় মারকাজ। চার পাঁচ বছর কেটে গেল, কাজের উন্নতিও হলো বেশ।
একবার ইজতেমার সময় মাওলানা শামসুল হক রহ. (সদর সাহেব) বললেন, বাবা আব্দুল আজিজ গ্রামে মারকায হয় না, মারকাজ খুলনায় নেওয়া দরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কাজ হলো। হুজুর হেলাতলার মোতাওয়াল্লী সাহেবের কাছে বলে তালাবওয়ালী মসজিদ বর্তমান দারুল উলুম মাদরাসার মসজিদে নেওয়া হলো মারকায। কাজ জোরেশোরে আরম্ভ হল। বরকতও হলো অনেক। হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব সর্বদা মারকাজে অবস্থান করেন। একবার ইজতেমার পর পরামর্শ হলো, হযরত মাওলানা শামসুল হক সাহেব বললেন, বাবা আব্দুল আজিজ! দেহ এক জায়গায় এবং রুহ অন্য জায়গায় কাজে বরকত হচ্ছে না। এখানে মারকায চলুক এলাকার ভিত্তিতে। তুমি ঢাকার লালবাগ শাহী মসজিদে চলে আসো। শাহী মসজিদ বাংলার মারকাজ হবে। তাই হলো। কিছুদিন চলার পর ইজতেমার জন্য লালবাগে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। সদর সাহেব হুজুর বললেন, দেখ মসজিদের সাথে মাঠ আছে কোথায়। পরামর্শ করে কেল্লার উত্তর পশ্চিম দিকে অবস্থিত খান মোহাম্মদ মসজিদ কে মারকায করে নেয়া হল। হযরত মাওলানা আব্দুল আজিজ সাহেব সেখানে আসলেন। এটা হল বাংলাদেশের পঞ্চম মারকায, লালবাগ মাদ্রাসা মসজিদ চতুর্থ মারকাজ এবং খুলনা তৃতীয়। কয়েক বৎসর পর খান মোহাম্মদ মসজিদ মাঠে ইজতেমার জায়গা সংকুলান হলো না। পরামর্শ হলো, হযরত মাওলানা সদর সাহেব সবাইকে বললেন আপনারা দেখুন, ঢাকা শহরে বড় মাঠের পাশে কোথাও কোন মসজিদ আছে কিনা। অনেক অনুসন্ধানের পরে পাওয়া গেল রমনাপার্ক বড় ময়দানের পাশে ছোট একটি মসজিদ আছে। নাম মালওয়ালি মসজিদ। বাংলাদেশের ৬ নম্বর দাওয়াতি মারকায হলো সেখানেই। হযরত মাওলানা আলী আকবর সাহেব, হযরত জমির উদ্দিন সাহেব, হযরত আশরাফ আলী সাহেব, আমাদের হাজী সাহেব হুজুরের পরিচালনায় এখন আমাদের নওজোয়ান মাওলানা যুবায়ের সাহেবও ছিলেন তখন। (শামসুল হক ফরিদপুরী জীবনী-মাওলানা আব্দুর
রাজ্জাক সংকলিত)

এই হচ্ছে বাংলাদেশে তাবলীগী কাজের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। কিছু দিন পরে প্রতিবছর ইজতেমায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে টঙ্গীর পাগার গ্রামের খোলা মাঠে ইজতেমার আয়োজন করা হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তাবলীগের সাথীদের মূল জামায়াত বার্ষিক ইজতেমা টঙ্গির ময়দানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আল্লাহ্‌ তায়ালা এই দ্বীনি মেহনতকে কবুল করে নিন।

Leave a Reply