ইসলামকে দায়ী করা এন্টি মুসলিমদের গুরুতর এক মূর্খতা- সা’দ সাইফুল্লাহ মাদানী

যে সমাজে হাঙ্গামা প্রতিদিনের রুটিন, সে সমাজের নানা ঝগড়ায় দাড়ি- টুপিওয়ালা থাকতেই পারে ,
আর থাকাটাই স্বাভাবিক। তাই বলে কি সে হুজুর বা ধর্মের প্রতীক?
দলীয় বিভক্তি এ দেশে সাধারণত রক্তপাতের দিকেই যায়। দলের ভেতরগত গ্রুপিং- এ দেশে কত শত মানুষ খুন হয়েছে? আছে কি তার কোন হিসেব?
এ রকম সমাজে তাবলীগ নামক ইসলামের একটি উন্মুক্ত প্লাটফর্ম যেখান সমস্ত মাজহাবের অনুসারী ও দলমত নির্বিশেষে দ্বীনের খিদমত করে যাচ্ছেন ইসলাম প্রিয় তাওহিদী জনতা। সেখানে বহিরাগত কিছু লেবাসধারী বিভাজন রক্তপাত ঘটিয়েছে।
যা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না।

এর গোড়ায় আছে স্থানীয় আচারধাচ, সমাজমানস, গোষ্ঠী,বলয় ও ব্যক্তিপুজা এবং রাজনৈতিক চিন্তাগত বাস্তবতা। যে বাস্তবতা আমাদের জাতীয় অগ্রগতির প্রতিটি দরোজায় শেকল লাগিয়ে দিয়েছে। আমাদের জীবনকে রক্তাক্ত করছে প্রতিনিয়ত।

কিন্তু তাবলীগের মারামারিকে উপলক্ষ করে এন্টি মুসলিম সুশীল ও কিছু বাম-রামদের আজ মহল্লায় আনন্দের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। টকশোতে বসে বসে এ বর্বরতাকে ইসলামের উপর চাপিয়ে দেয়ার এক ফন্দি আকছে, তারা এ ঘটনার জন্য ইসলামকে কলুষিত করায় ব্যস্ত রয়েছে।

ইযরাইল ও খ্রিস্টানদের চক্রান্তে অবুঝ সাথী এতায়াতীরা মুসলমানদের প্রশ্নবিদ্ধ করেই যাচ্ছে। মূলহোতারা টাকার পাহাড়ে বসে উন্মাদ হয়ে গেছে। তাঁরা এখন শুধু বুঝে অর্থ ও ক্ষমতা। তাদের স্লোগান হয়েগেছে “টাকা,টাকা আর টাকা কি প্রয়োজন আমরা দেখবো।

এখান থেকে তো স্পষ্ট হওয়ার কথা ইন্ধন খুব গভীর থেকে।

মুসলিমদের কোনো অংশ হটকারি তখনই হয়, যখন ইসলামকে তারা নিজের বাস্তব জীবনে ধারণ করে না। মুসলিম বলেই তার মন্দ আচরণের জন্য ইসলামকে দায়ী করা স্যাকুলার, এন্টি মুসলিম প্রগতিপন্থীদের গুরুতর এক মূর্খতা।
তাদের জানা উচিত খ্রিস্টানদের ক্যাথোলিক ও প্রটেস্টান্ট গ্রুপগুলো ইউরোপে ছয় শত বছর ধরে নিজেদের মধ্যে রক্তপাত করেছে। খুনের শহরে পরিণত করেছে। প্রতিপক্ষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
কিন্তু এ জন্য তো খ্রিস্টধর্মকে দায়ী করা হয়নি!
এর দায় তো চাপানো হয়নি ধর্মগুরুর শিক্ষা ও আদর্শের উপর!
তারা কি হিটলারের আচরণের জন্য গণতন্ত্রকে দণ্ড দেবেন? খ্রিস্টধর্মকে দায়ী করবেন? তিনি তো নির্বাচিত হয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। সেও তো খ্রিস্টান তা কি জানার বাকি?

ওম শান্তি, ওম শান্তি, বলে, বলে, মায়ানমারে তারা যে হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছে তা কি আপনার অজানা? তারা কি অং সান সুচির বর্বরতার জন্য বৌদ্ধধর্মকে দায়ী করে? গণতন্ত্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করে?
তারা কি ছাত্রলীগ, ছাত্রদল নামধারী কিছু সন্ত্রাসের জন্য স্যাকুলারিজমকে দায়ী করে?
তারা কি বাংলাদেশের কিছু নাগরিকের বেআইনী আচরণের জন্য বাংলাদেশের সংবিধানকে দায়ী করে? আইন ব্যবস্থাকে দোষী বানায়?

এটা তারা করেন না।
বিবেক ও যুক্তি একে সমর্থন করে না।
পৃথিবীর কোথাও কোনো জ্ঞানতত্ত্ব একে গ্রহন করেনি। যখন সত্য ও বাস্তবতা, তখন তাবলীগের দু’ পক্ষের মধ্যকার সংঘাতের জন্য কেন ইসলামকে দায়ী করছেন? যদিও তাবলীগে দু’পক্ষ বলতে কিছু নেই। এটি তো সাজানো হামলাযোগ্য ও তাবলীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পিত চক্রান্তের ছক বুঝতে কি কোন বাঁধা আছে?
আল্লাহ হেফাজত করুন।

Leave a Reply