edited-প্রতিবেদন- “পাষাণ হৃদয় নিয়ে সন্ত্রাসী হওয়া যায়, দ্বীনের দাঈ নয়” কান্না জড়িত কন্ঠে মাওলানা হাসান জামিল

গত চার জানুয়ারি চকবাজারে এক মাহফিলে সাদপন্থিদের উদ্দেশ্য করে মাওলানা হাসান জামিল বলেন,

আমাদের ইতিহাস হচ্ছে, আফগানিস্তানে যখন ওলামায় দেওবন্দের রক্ত ঝরেছে রাশিয়ার শ্বেত ভল্লূকেরা পালাতে বাধ্য হয়েছে। তোমরা তোমাদের নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করো!

লড়তে চাও? লড়ার আগে আমাদের ইতিহাস পড়ে আসো। আবার যদি আমাদের (ওলামায় কেরামের) রক্ত এ জমিন স্পর্শ করে খোদার কছম একটাকেও পালাতে দেওয়া হবে না ইনশাআল্লাহ। আমরা নিজেদেরকে সে অবস্থায় দাঁড় করাতে চাই না। এখনো আমাদের বুকটা খোলা, কারণ আমরা নবীর ওয়ারিশ। তোমাদের জন্য বুকটা খোলা আছে সারাক্ষণ। তোমরা আমাদের কলিজার টুকরা গুলোর রক্ত ঝরিয়েছো।
আমি, মাওলানা মামুন ভাই, মাওলানা আইয়ূবী সাহেব, মুফতী সাখাওয়াত ভাই হাসপাতাল ও মাদরাসাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেছি।
আহ.. তোমরা আমাদের সন্তানগুলোর পায়ে আঘাত করোনি। প্রতিটি আঘাতের চেষ্টা হয়েছে মাথায়!
কেন মাথায় আঘাত করেছো? তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করার জন্যে? নাকি হত্যার জন্য?
আরে আজকে তো পুলিশও মাথায় আঘাত করতে চায় না, নিতম্বে নইলে পায়ে আঘাত করে। তোমরা আমার কলিজার টুকরোগুলোকে মাথার মধ্যে আঘাত করে করে রক্তগুলো ঝরিয়েছো, তোমাদের কলিজার মধ্যে একটুও রক্তক্ষরণ হয়নি? বিন্দুমাত্র মায়া লাগেনি?
ছোটবেলা কার কাছে কায়দা পড়েছো? সূরা ফাতিহা শিখেছো? যেই আলেমদের কাছে নামাজ শিখলা, কালিমা শিখলা, সেই আলেমদের মাথা ফাটাতে তোমাদের হাত কাঁপল না? অন্তর কেঁপে উঠলো না? তোমরা কি মানুষ? পাষাণ হৃদয় নিয়ে সন্ত্রাসী হওয়া যায়, দ্বীনের দাঈ হওয়া যায় না। ইঞ্জিনিয়ার সাহেব কয় দিনের আমীর? বুকটা খুলে দিলাম, মাফ করে দিলাম, তোমরা যত ফোঁটা রক্ত ঝরিয়েছো, আমি কছম করলে গোনাহ হবে না -তাঁর চেয়ে বেশি চোখের পানি ফেলেছে ওলামায়ে কেরাম। বদ দোয়া করেন নি। তোমাদের হেদায়াতের দোয়া করে আজও দোয়া করি।
ইহুদিরা কল কাঠি নাড়ছে। তোমরা বুঝো না কেন? ওলামায় কেরাম উম্মতের ঈমানের ঘরের পাহারাদার। পাহারাদারকে দমাতে পারলেও ঘরে ডাকাতি করতে সহজ হয়। তোমরা কেন বুঝো না। যত বাতিল গ্রুপ আছে, তাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে সাধারণ মানুষকে আলেমদের থেকে বিচ্ছিন্ন করা।
আজও এই চক্রান্ত চলছে। তোমাকে আমাকে বিচ্ছিন্ন করে। দ্বীন থেকে তোমাকে দূরে সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত চলছে।
বুকটা খুলে দিলাম। বদ দোয়ার হাত ওঠাতে চাই না। আজও দোয়া করি আল্লাহ! আমার হারানো ভাইকে তুমি ফিরে দাও!!

বলতে বলতে এক পর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

Leave a Reply